শচীন না বিরাট, কে এগিয়ে? ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্যে ফের তুঙ্গে ক্রিকেট বিতর্ক
শচীন-বিরাট তুলনায় নতুন করে বিতর্ক
শচীন তেন্ডুলকর ও বিরাট কোহলির মধ্যে কে বেশি দক্ষ ব্যাটার—ক্রিকেটে এই পুরনো বিতর্কই নতুন করে উসকে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি দুই ভারতীয় কিংবদন্তির টেস্ট ক্রিকেটে বিদেশের কঠিন পরিবেশে পারফরম্যান্স এবং প্রভাব নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন। ডি ভিলিয়ার্সের মূল্যায়নে কোহলি বিদেশের মাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের সাফল্যের মান আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে মনে হয়েছে।
ডি ভিলিয়ার্স শচীনের অবদানকে ছোট করেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, শচীনই ছিলেন সেই প্রজন্মের পথপ্রদর্শক, যিনি উপমহাদেশের ব্যাটাররাও বিদেশের কঠিন পরিবেশে সফল হতে পারেন—এই বিশ্বাস তৈরি করেছিলেন। তবে তাঁর মতে, পরবর্তী সময়ে বিরাট কোহলি সেই জায়গা থেকে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান এবং বিদেশের মাটিতে দলকে সাফল্য পাওয়ার মানসিকতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ডি ভিলিয়ার্সের বক্তব্যের মূল বিষয়: শচীন ছিলেন পথপ্রদর্শক, কিন্তু বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মানসিকতা ও ধারাবাহিকতাকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোহলির প্রভাবকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে দুই কিংবদন্তির তুলনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
- ডি ভিলিয়ার্স শচীন তেন্ডুলকর ও বিরাট কোহলির টেস্ট ব্যাটিং নিয়ে তুলনা করেছেন।
- বিদেশের কঠিন কন্ডিশনে কোহলির প্রভাবকে তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
- শচীনকে ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- তাঁর মন্তব্যের পর ক্রিকেট মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
- বিদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের সাফল্যে কোহলির নেতৃত্বের প্রভাবও আলোচনায় এসেছে।
বিদেশের মাটিতে শচীন ও বিরাটের প্রভাব
পরিসংখ্যানের দিক থেকে শচীন তেন্ডুলকরের টেস্ট ক্যারিয়ার বিশাল। তিনি ২০০টি টেস্টে ১৫,৯২১ রান করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে টেস্ট ক্রিকেটে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। অন্যদিকে বিরাট কোহলি ১২৩টি টেস্টে ৯,২৩0 রান করে ভারতের অন্যতম সফল আধুনিক টেস্ট ব্যাটার হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। বিদেশের মাটিতেও দুজনের পারফরম্যান্স দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট বিশ্লেষণের বিষয়।
ডি ভিলিয়ার্সের বক্তব্যের মূল কেন্দ্র অবশ্য মোট রান বা শতরানের পরিসংখ্যান নয়। তাঁর মূল্যায়নে কোহলির প্রভাব ভারতীয় টেস্ট দলের মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গেও যুক্ত। অধিনায়ক হিসেবে কোহলির সময়ে ভারত বিদেশের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। সেই পরিবর্তনকে বর্তমান প্রজন্মের ব্যাটারদের উপরও প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিশেষ করে শচীনের মতো সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটারের সঙ্গে কোহলির তুলনায় ডি ভিলিয়ার্সের মূল্যায়ন নিয়ে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রাক্তন ভারতীয় পেসার দোদ্দা গণেশও প্রকাশ্যে ডি ভিলিয়ার্সের বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছেন। ফলে বিতর্কটি শুধু সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ
শচীন-বিরাট তুলনার পাশাপাশি ডি ভিলিয়ার্স টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দ্রুত প্রসার এবং খেলোয়াড়দের ব্যস্ত সূচির মধ্যে দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটকে কীভাবে আকর্ষণীয় ও টেকসই রাখা যায়, সেটি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় প্রশ্ন। ডি ভিলিয়ার্স এর আগেও টেস্ট ক্রিকেটের উপর টি-টোয়েন্টির প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শচীন ও বিরাটকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা সহজ নয়। দুই ভিন্ন যুগে, ভিন্ন ধরনের ক্রিকেট পরিবেশে তাঁরা খেলেছেন। তাই কার ব্যাটিং শ্রেষ্ঠ—এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর না থাকলেও ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্য ভারতীয় ক্রিকেটের দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তিকে নিয়ে বিতর্ককে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
একদিকে শচীনের দীর্ঘ ক্যারিয়ার, কঠিন সময়ে ধারাবাহিকতা এবং ভারতীয় ক্রিকেটে ঐতিহাসিক প্রভাব; অন্যদিকে বিরাটের আগ্রাসী মানসিকতা, বিদেশে সাফল্য এবং আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে নতুন মানদণ্ড তৈরির চেষ্টা—দুই ক্ষেত্রেই রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। তাই ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্যের পর ‘শচীন না বিরাট’ বিতর্ক আরও কিছুদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।