সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দল, এবার ইয়েমেনের চ্যালেঞ্জের অপেক্ষা

সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দল, এবার ইয়েমেনের চ্যালেঞ্জের অপেক্ষা

সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ল ভারতীয় যুব দলের

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রস্তুতিতে দারুণ শুরু করেছে ভারতের অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ফুটবল দল। বেঙ্গালুরুর সেন্টার ফর স্পোর্টস এক্সেলেন্সে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় পেয়েছে মহেশ গাওলির দল। এই ম্যাচটি ছিল আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ চিন ২০২৭-এর যোগ্যতা অর্জন পর্বের আগে ভারতীয় দলের প্রস্তুতির অংশ।

সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে জয় ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও প্রস্তুতি এখনও শেষ হয়নি। বেঙ্গালুরুতে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে দলকে আরও পরখ করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রতিপক্ষ হিসেবে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ম্যাচও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের নির্দিষ্ট সূচি বা ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় সেটিকে চূড়ান্ত ম্যাচ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনই মূল লক্ষ্য

ভারতের অনূর্ধ্ব-২০ দলের বর্তমান প্রস্তুতির প্রধান লক্ষ্য হল AFC U20 Asian Cup China 2027 Qualifiers। এই যোগ্যতা পর্বে ভারত গ্রুপ বি-তে রয়েছে। একই গ্রুপে রয়েছে উজবেকিস্তান, সিরিয়া এবং বাংলাদেশ। যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচগুলি উজবেকিস্তানের তাসখন্দে ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

  • ভারত রয়েছে গ্রুপ বি-তে।
  • গ্রুপে ভারতের প্রতিপক্ষ সিরিয়া, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশ।
  • যোগ্যতা পর্ব অনুষ্ঠিত হবে তাসখন্দে।
  • ম্যাচগুলি ৩১ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়ার কথা।
  • গ্রুপের শীর্ষ দলগুলি এবং সেরা দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক দল মূল পর্বে উঠবে।

বেঙ্গালুরুতে চলছে কঠোর প্রস্তুতি

ভারতীয় অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রস্তুতি শিবির বেঙ্গালুরুতে চলছে। ট্রায়ালের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক তরুণ ফুটবলারকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে বাছাই করে জাতীয় দলের শিবিরে খেলোয়াড়দের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রধান কোচ মহেশ গাওলির নেতৃত্বে দলটি কৌশল, ফিটনেস এবং ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের আরও পরিণত করার চেষ্টা করছে।

সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে রিশি সিং নিংথৌখোংজাম, শামি সিংগামায়ুম এবং একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ভারত ৩-০ ব্যবধানে জয় পায়। ম্যাচটি দর্শকশূন্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও কোচিং স্টাফের কাছে এটি ছিল খেলোয়াড়দের ম্যাচ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তরুণদের পারফরম্যান্সে নজর

অনূর্ধ্ব-২০ স্তরে আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের ভারতীয় ফুটবলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেঙ্গালুরুর প্রস্তুতি শিবিরে বিভিন্ন পজিশনের একাধিক তরুণ ফুটবলারকে সুযোগ দিয়ে তাঁদের পারফরম্যান্স পরখ করা হচ্ছে। চূড়ান্ত স্কোয়াড বাছাইয়ের আগে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ফিটনেস, টেকনিক, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলীয় কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতার উপর নজর রাখা হচ্ছে।

ইয়েমেনের বিরুদ্ধে প্রস্তুতিতে আরও পরীক্ষা

সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে জয়ের পর ভারতীয় দল আরও কঠিন পরীক্ষার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে চাইবে। ইয়েমেনের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ থাকলে সেটি এশিয়ান স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলের প্রস্তুতি যাচাইয়ের ভালো সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে সংগঠিত থাকা—এই বিষয়গুলিতে ভারতীয় কোচিং স্টাফের নজর থাকবে।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফলই শেষ কথা নয়। মূল লক্ষ্য হল যোগ্যতা অর্জন পর্বে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা এবং গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্বে ওঠার জায়গা তৈরি করা। সেই কারণে বেঙ্গালুরুর প্রতিটি অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচকে দলের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামনে কঠিন এশিয়ান চ্যালেঞ্জ

যোগ্যতা পর্বে ভারতের সামনে সিরিয়া, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষ রয়েছে। বিশেষ করে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের নিজেদের মাঠে ম্যাচটি কঠিন হতে পারে। তাই মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে যত বেশি সম্ভব আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে দলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয় সেই প্রস্তুতির ইতিবাচক সূচনা করেছে। এখন বেঙ্গালুরুর শিবিরে আরও ম্যাচ ও অনুশীলনের মাধ্যমে দলকে প্রস্তুত করার লক্ষ্য থাকবে। শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তুতি কতটা কাজে লাগে, তার উত্তর মিলবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেই।