টাকার বিনিময়ে ডিগ্রি দেওয়ার অভিযোগ: রাজ্যের ৪৫০টি বিএড কলেজকে শো-কজ নোটিস উচ্চশিক্ষা দপ্তরের
টাকার বিনিময়ে ডিগ্রি বিতরণের অভিযোগে রাজ্যের ৪৫০টি বিএড কলেজকে নোটিস
টাকার বিনিময়ে ভুয়ো বা অনৈতিকভাবে ডিগ্রি পাইয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্যের প্রায় ৪৫০টি বিএড (B.Ed) কলেজকে কড়া শো-কজ নোটিস পাঠাল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দপ্তর। শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে চলা এই ধরনের দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ব্যাড কলেজগুলির বিরুদ্ধে ওঠা এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
উচ্চশিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটা টাকার বিনিময়ে ক্লাস না করিয়েই পাশ সার্টিফিকেট ও ডিগ্রি প্রদান করছে বলে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর পরেই প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এই বিশাল সংখ্যক কলেজকে নোটিস ধরানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সমস্ত কলেজ কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: শিক্ষক পর্ষদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশিকা উপেক্ষা করে ডিগ্রি বিক্রির এই চক্রের সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।
- অভিযুক্ত কলেজগুলিকে দ্রুত নোটিসের লিখিত উত্তর জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নিয়ম লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে কলেজগুলির অনুমোদন বাতিল করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে দপ্তর।
- রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষক শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
শিক্ষক মহলে প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
শিক্ষিত সমাজ ও সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের দুর্নীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষকদের মান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে বিএড কলেজগুলির বেনিয়ম অনেকটাই দমন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এই কড়া পদক্ষেপে শিক্ষা জগতের অসাধু চক্রগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, এবং আগামী দিনে আইনি পদক্ষেপের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।