মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু
মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ৬ জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শনিবার, ২২ আগস্ট, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহগুলি বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের তৎপরতায় এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে নিউ মার্কেট থানা এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ আগুন ও ঘন ধোঁয়ার কারণে বেশ কয়েকজন হোটেল অতিথি আটকে পড়েন। দমকল ও উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় বহু মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা হলেও এই ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।
পেট্রাপোল হয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে মরদেহ
নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরানোর জন্য কলকাতা থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলি উত্তর ২৪ পরগনার পেট্রাপোল স্থলবন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
সীমান্তপথে হস্তান্তর: পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থল যোগাযোগের পথ। এই সীমান্ত দিয়েই মরদেহগুলি বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ কলকাতাতেই সৎকার
অগ্নিকাণ্ডে নিহত অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী কলকাতাতেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরানোর সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রেবতী সরকারের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই কলকাতায় তাঁর সৎকারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে নিহতদের মধ্যে যাঁদের পরিবার দেশে মরদেহ ফেরত চেয়েছে, তাঁদের জন্য এক ধরনের ব্যবস্থা এবং যাঁর পরিবারের ইচ্ছা কলকাতায় শেষকৃত্য, তাঁর জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করছে কর্তৃপক্ষ
নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় খরচ কর্তৃপক্ষ বহন করছে। মরদেহগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা থেকে শুরু করে আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলি সহযোগিতা করছে।
বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি ধাপ থাকে। পরিচয় নিশ্চিতকরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মতো বিষয়গুলি সম্পন্ন হওয়ার পরই মরদেহ হস্তান্তর করা সম্ভব হয়। এই ক্ষেত্রেও সেই প্রক্রিয়া শেষ করেই বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে আগুনে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।
- নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে ৬ জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
- ২২ আগস্ট শনিবার মরদেহ পাঠানোর বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
- পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।
- রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় কলকাতাতেই সৎকার করা হবে।
- মরদেহ সংরক্ষণ ও দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় খরচ কর্তৃপক্ষ বহন করছে।
বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের তৎপরতা
মরদেহ দেশে ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিহতদের পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ভারতীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সীমান্তে মরদেহ পৌঁছনোর পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এই ধরনের ঘটনায় মৃতের পরিবারকে দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশের মাটিতে প্রিয়জনের মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হোটেল অগ্নিকাণ্ডের তদন্তও চলছে
মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কলকাতার শিখা ইন হোটেলে আগুন লাগার ঘটনাটির তদন্তও চলছে। আগুনের প্রকৃত কারণ, হোটেলের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কোনও ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হোটেল পরিচালনার বিভিন্ন দিকও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া পরিবারগুলিকে শেষকৃত্যের সুযোগ করে দেওয়ার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ৬টি মরদেহ পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছনোর পর পরিবারের সদস্যদের হাতে তা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।