নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ কলকাতার একাধিক বাসিন্দা, বাড়ছে উদ্বেগ
নেপালের প্রলয়ঙ্করী হড়পা বান ও ভূমিধসে নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই মানস সরোবর তীর্থযাত্রায় যাওয়া কলকাতার একাধিক বাসিন্দা সহ মোট ৩২ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। গত ২১ আগস্ট কলকাতার একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে মানস সরোবরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে তাঁরা নেপালে পৌঁছেছিলেন। তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রাসুয়াগাধি এলাকায় নেপাল-তিব্বত বর্ডার পার হওয়ার সময় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে, যার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নিখোঁজদের পরিবার ও রাজ্যজুড়ে তীব্র উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও নিখোঁজদের বিবরণ
প্রশাসনের তরফ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ পর্যটকদের দলে কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলার কিছু বাসিন্দাও রয়েছেন। দুর্ঘটনার মূল বিবরণসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
- গত বুধবার সকালে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করার সময় আচমকাই হড়পা বান ও পাহাড়ি ঢল নামে।
- মঙ্গলবার পর্যন্ত কাঠমান্ডু থেকে ছবি ও ভিডিও পাঠালেও বুধবার সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে দলের কারোর সঙ্গেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
- নিখোঁজদের বেশিরভাগই বয়স্ক তীর্থযাত্রী, যারা দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন।
- হুগলি জেলার আরও একটি পর্যটকমণ্ডলীও নেপালের বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে কিছুটা দূরে আটকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের পদক্ষপ ও হেল্পলাইন চালু
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নবান্ন ও ভবানী ভবনে বিশেষ কন্ট্রোল রুম এবং হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস এবং নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিখোঁজ পর্যটকদের উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং দ্রুত সুসংবাদ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।