সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ২০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা
সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ২০ বিলিয়ন ডলারের পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ২৭.৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার) মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক (Retaliatory Tariffs) আরোপের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কানাডার পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় অটোয়া এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দুই দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই বাণিজ্যযুদ্ধ এখন নতুন মোড় নিয়েছে।
কানাডার অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে প্রকাশ, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন পাল্টা শুল্ক কার্যকর করা হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৭০০ ধরনের পণ্যের ওপর ১৫%, ২৫% এবং ৫০% হারে এই শুল্ক বসানো হবে। এর মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র ও পোশাকের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ; চিজ, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং কিছু সামুদ্রিক খাদ্যে ২৫ শতাংশ এবং ইলেকট্রনিক্স ও সরঞ্জামে ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে, এই বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য বহু কোটি ডলারের একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজও ঘোষণা করেছে কানাডা সরকার।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মার্কিন প্রশাসনের একতরফা শুল্ক নীতির জেরে সৃষ্ট বাণিজ্য সংঘাতে কড়া জবাব দিয়ে কানাডা সরকার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- পাল্টা শুল্কের ঘোষণা: মার্কিন নীতির জবাব দিতে কানাডা প্রায় ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫%, ২৫% এবং ৫০% হারে শুল্ক কার্যকর করতে চলেছে।
- বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা: দুই দেশের মধ্যে চলা দীর্ঘ আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।
- নির্বাচিত পণ্যের তালিকা: ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ওপর এই বাড়তি শুল্কের প্রভাব সরাসরি পড়বে।
- আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ: বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে দেশীয় শিল্প ও শ্রমিকদের সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কানাডা সরকার বড় অংকের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেছে।
শুল্ক সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী সুফল ও প্রভাব
এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ও পারস্পরিক শুল্ক লড়াই দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করলেও, এটি কানাডাকে তাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও বাণিজ্যিক বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপে আরও আত্মনির্ভরশীল হতে বাধ্য করবে।