যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ বিক্ষোভ মিছিল, ক্যাম্পাসে উত্তেজনার পরিবেশ
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিল
রাজধানী কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল ক্যাম্পাসের পরিবেশ। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। এর বিরুদ্ধে একটি জোরালো যৌথ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও সংলগ্ন এলাকায়। শত শত ছাত্রছাত্রী এই মিছিলে অংশ নিয়ে স্লোগান তোলেন এবং শিক্ষাঙ্গনের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার দাবি জানান। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার জন্য সচেতনভাবে বহিরাগতদের প্রবেশ করানো হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চলছে। গৈরিকীকরণের এই চক্রান্ত কোনোভাবেই সফল হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বতন্ত্র বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির জন্য পরিচিত, এবং বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। মিছিলটি ক্যাম্পাস পরিক্রমা করার পর একটি সংক্ষিপ্ত সভার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের দাবিতে যাদবপুরে বাম ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধভাবে পথে নেমেছেন।
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির যৌথ মিছিল।
- ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
- শিক্ষাঙ্গনের স্বায়ত্তশাসন ও ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে স্লোগানে মুখরিত হয় ক্যাম্পাস।
- পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও প্রশাসনের ভূমিকা
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং হস্টেল ও ডিপার্টমেন্টগুলির নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রনেতারা।
শিক্ষাবিদদের একটি অংশের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়ানো অত্যন্ত জরুরি যাতে পঠনপাঠনের পরিবেশ অক্ষুণ্ণ থাকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদও চড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।