গাজা রোড ম্যাপ নিয়ে হামাস প্রধানের সঙ্গে বৈঠক জ্যারেড কুশনারের, এরপর নেতানিয়াহুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা
গাজা রোড ম্যাপ নিয়ে হামাস প্রধানের সঙ্গে কুশনারের বৈঠক
গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির লক্ষ্যে মার্কিন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন দূত জ্যারেড কুশনার। মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত এই বিরল বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা রোড ম্যাপ বাস্তবায়নের পথ নিয়ে আলোচনা হয়। কুশনারের এই বৈঠকের পরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফার গাজা রোড ম্যাপ-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। কিন্তু কোন পক্ষ আগে কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়েই মূল মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। হামাস পরিকল্পনাটির কিছু মূল বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে বলে জানা গেলেও ইসরায়েল এখনও হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে সেনা প্রত্যাহারের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
হামাস প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক
কুশনারের সঙ্গে হামাসের রাজনৈতিক প্রধান খলিল আল-হাইয়ার বৈঠকটি দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। আলোচনায় মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত ছিলেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, হামাসের অস্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য হলো পরিকল্পনাটি কোন ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসকে আগে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র হতে হবে। অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে যুক্ত করতে চাইছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
- জ্যারেড কুশনার কায়রোতে হামাস প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন।
- আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার গাজা রোড ম্যাপ।
- পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে।
- মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরাও মধ্যস্থতায় যুক্ত ছিলেন।
- হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর কুশনার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এরপর নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক
হামাসের সঙ্গে আলোচনার পর জ্যারেড কুশনার জেরুজালেমে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক করেন। লক্ষ্য ছিল গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা কাটানোর পথ খুঁজে বের করা। তবে বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা আসেনি। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
নেতানিয়াহু আবারও স্পষ্ট করেছেন যে হামাস সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করার পাশাপাশি গাজা পুনর্গঠনের আগে নিরস্ত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে এখনও বড় বাধা
কুশনারের দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরও গাজা পরিকল্পনা নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়নি। হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই পরিকল্পনার কিছু অংশে সমর্থন জানালেও বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে মতপার্থক্য রয়েছে। এই কারণেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি পরিকল্পনা কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও অনিশ্চিত। :contentReference[oaicite:6]{index=6}
তবে আলোচনার পর গাজায় নিরস্ত্রীকরণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে পৃথক কর্মী দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুশনারের পক্ষ থেকে গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে, যদিও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠন শুরু না করার অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে। :contentReference[oaicite:7]{index=7}
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন উদ্যোগ
হামাস ও ইসরায়েল—দুই পক্ষের সঙ্গেই সরাসরি আলোচনায় বসা কুশনারের এই সফর গাজা সংকট সমাধানে মার্কিন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নেতানিয়াহুর অবস্থান এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতপার্থক্য দূর না হলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে। :contentReference[oaicite:8]{index=8}
সব মিলিয়ে, হামাস প্রধান খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে জ্যারেড কুশনারের বৈঠক এবং পরদিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে গাজা রোড ম্যাপকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ক্রম নিয়ে মতভেদ এখনও রয়ে গেছে। ফলে গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।