আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ: অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার ছাড়াল

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ: অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার ছাড়াল

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ, বিশ্ব তেল বাজারে নতুন উদ্বেগ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার ছাড়িয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুড এক পর্যায়ে ৯১.৪৯ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়, যা জুলাইয়ের শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ স্তরের মধ্যে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে না বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে ইরান আরও আক্রমণাত্মক সামরিক অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর বাড়ল চাপ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের অস্থায়ী সমঝোতার সময়সীমা শেষ হলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। দুই পক্ষই সমঝোতা ভেঙে পড়ার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। এ পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: তেল বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের অন্যতম কারণ স্ট্রেট অব হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমার আশঙ্কা তৈরি হয়, যার প্রভাব দ্রুত দামের ওপর পড়তে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই জলপথে চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

  • আমেরিকা-ইরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
  • স্থায়ী শান্তি সমঝোতা নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
  • ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৮ আগস্ট ব্যারেল প্রতি ৯১ ডলার অতিক্রম করেছে।
  • রয়টার্সের হিসাবে ব্রেন্ট এক পর্যায়ে ৯১.৪৯ ডলারে পৌঁছায়।
  • স্ট্রেট অব হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সরবরাহ নিয়ে আশঙ্কায় বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম

আন্তর্জাতিক তেলের দাম নির্ধারণে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, সরবরাহের নিরাপত্তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তেলক্ষেত্র, জাহাজ চলাচল এবং পরিবহন রুট প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারের মূল উদ্বেগ হলো, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ব বাজারে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। এই আশঙ্কাই ব্রেন্ট ক্রুডের দামে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

শুধু ব্রেন্ট নয়, মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা WTI-এর দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, WTI ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলারের বেশি উঠে যায়। একই সঙ্গে তেলের বাজারে টানা কয়েক দিন ধরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, যা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলির দিকে নজর

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি আমদানিনির্ভর দেশগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারতও নিজের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক দামের দীর্ঘস্থায়ী বৃদ্ধি হলে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বাড়লেই ভারতের খুচরা পেট্রোল ও ডিজেলের দামে সঙ্গে সঙ্গে একই হারে পরিবর্তন হবে, এমন নয়; অভ্যন্তরীণ মূল্য নির্ধারণে একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখে।

১৮ আগস্ট ভারতের বিভিন্ন শহরে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা দাম বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই স্থিতিশীল ছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে যায় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম কতদিন উচ্চ স্তরে থাকে, তার ওপর আগামী দিনের বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

এবার নজর কূটনৈতিক আলোচনার দিকে

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সমঝোতার পথ খোলে কি না, সেদিকেই এখন বিশ্ব বাজারের নজর। স্ট্রেট অব হরমুজে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরবে কি না এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত বাড়ে কি না, এই দুই বিষয় তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অস্থিরতাও বজায় থাকতে পারে।