প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে কোন তথ্যগুলো অবশ্যই দেখে নেবেন? জেনে নিন
প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে কোন তথ্যগুলো অবশ্যই দেখে নেবেন?
বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আমরা প্রতিদিন সুপারমার্কেট বা মুদি দোকান থেকে নানা ধরনের প্যাকেটজাত ও প্রসেসড খাবার কিনে থাকি। কিন্তু এই প্যাকেটজাত খাবারগুলো কেনার পূর্বে এর মোড়কে থাকা লেবেল বা তথ্যাবলী সঠিকভাবে যাচাই না করলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। অনেক সময় আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন বা কম দামের লোভে পড়ে আমরা এমন খাবার কিনে ফেলি যা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই যেকোনো প্রসেসড বা সিলড ফুড কেনার আগে কিছু মৌলিক তথ্য দেখে নেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় সবচেয়ে প্রথমে দেখতে হবে ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সপায়রি ডেট এবং সেই সঙ্গে নিউট্রিশনাল ভ্যালু বা পুষ্টি উপাদান চার্ট। খাবারে প্রিজার্ভেটিভ, অতিরিক্ত সোডিয়াম, কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর ফ্যাট আছে কি না তা লেবেলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। এছাড়া নিরামিষ ও আমিষ খাবার চেনার জন্য প্যাকেটের গায়ে সবুজ বা লাল রঙের গোল লোগো এবং গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য এফএসএসএআই (FSSAI) লাইসেন্স নম্বর যাচাই করা একজন সচেতন ক্রেতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) আইন অনুযায়ী প্রতিটি প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে উপাদানের সঠিক তালিকা এবং পুষ্টির পরিমাণ মুদ্রণ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
- খাবারের প্যাকেটে এফএসএসএআই (FSSAI) লোগো এবং বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স নম্বর প্রিন্ট করা আছে কি না দেখে নিন।
- খাবারে অ্যালার্জেন বা বাদাম, ল্যাকটোজের মতো উপাদান থাকলে তা লেবেলে সতর্কবার্তা হিসেবে আছে কি না চেক করুন।
- প্যাকেটের সিলের অখণ্ডতা পরীক্ষা করুন, কোথাও কোনো ছিদ্র বা আলগা ভাব থাকলে তা কেনা থেকে বিরত থাকুন।
- খাদ্যপণ্যটি সংরক্ষণের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বা নির্দেশিকা (Storage Instructions) সঠিকভাবে মেনে চলুন।
খাদ্য নিরাপত্তা ও সচেতনতার গুরুত্ব
অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল প্যাকেটজাত খাবার শিশুদের ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী খারাপ প্রভাব ফেলে। সামান্য সতর্কতা আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।
খাদ্য কেনার সময় লেবেল পড়ার অভ্যাস করুন, ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন করুন।