নকল ব্র্যান্ডের পণ্য চিনবেন কীভাবে? কেনার আগে জানুন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উপায়
নকল ব্র্যান্ডের পণ্য চিনবেন কীভাবে?
বর্তমান বাজারে পোশাক, জুতো, কসমেটিকস, পারফিউম থেকে শুরু করে দামি ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটের ক্ষেত্রে নামী-দামি ব্র্যান্ডের হুবহু দেখতে নকল বা রেপ্লিকা পণ্যের ছড়াছড়ি। অসাধু বিক্রেতারা আসল ব্র্যান্ডের আদলে অবিকল দেখতে ফেইক পণ্য তৈরি করে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন এবং আসল দামেই তা বিক্রি করছেন। এই নকল ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো কেবল আপনার কষ্টার্জিত টাকাই নষ্ট করে না, বরং প্রসাধন সামগ্রী বা ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রে তা ত্বক, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার জন্য চরম বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে।
আসল ও নকল ব্র্যান্ডের পণ্যের মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য কেনাকাটার সময় কিছু সূক্ষ্ম বিষয়ের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখা আবশ্যক। প্রথমত, নকল পণ্যের প্যাকেজিং, লোগো কিংবা স্পেলিংয়ে প্রায়শই সূক্ষ্ম ভুল, রঙের তারতম্য বা ফন্টের গড়মিল থাকে। দ্বিতীয়ত, আসল ব্র্যান্ডের পণ্যের দাম যেখানে নির্দিষ্ট মানের এবং সব জায়গায় প্রায় সমান হয়, সেখানে অস্বাভাবিক কম দাম বা বিশাল ডিসকাউন্টের অফার দেখলে বুঝতে হবে সেটি নকল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল হলোগ্রাম, বারকোড এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রস্তুতকারকের ডাটাবেজে তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ট্রেডমার্ক আইন এবং ভোক্তা সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী আসল ব্র্যান্ডের লোগো বা নাম নকল করে বাজারে ফেইক পণ্য বিক্রি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য ভারী জরিমানার বিধান রয়েছে।
- পণ্য কেনার সময় ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল প্যাকেজিং, ফিজিক্যাল কোয়ালিটি এবং সুইং বা ফিনিশিং নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করুন।
- অপরিচিত ফুটপাত বা সন্দেহজনক থার্ড-পার্টি ই-কমার্স সাইট থেকে নামী ব্র্যান্ডের পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন।
- ইলেক্ট্রনিক্স বা গ্যাজেটের ক্ষেত্রে বিআইএস (BIS) মানক লোগো এবং জেনুইন ওয়ারেন্টি কার্ড বা সিরিয়াল নম্বর আছে কি না যাচাই করুন।
- কোনো পণ্য সন্দেহজনক মনে হলে বা নকল প্রমাণিত হলে পাকা ক্যাশ মেমোসহ জাতীয় ভোক্তা হেল্পলাইনে অবিলম্বে অভিযোগ করুন।
সচেতন কেনাকাটার বাড়তি সতর্কতা
অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো উৎস থেকে কেনাকাটার সময় সর্বদা বিশ্বস্ত ও অথোরাইজড ডিলার বা ব্র্যান্ডের নিজস্ব ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বেছে নিন। একটুখানি সতর্কতা আপনাকে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করবে।
ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন, নকল ব্র্যান্ডের পণ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন এবং নিরাপদ ও বিশ্বস্ত কেনাকাটার পরিবেশ গড়ে তুলুন।