আকাশে মেঘ কিন্তু বৃষ্টি নেই: তীব্র অনাবৃষ্টিতে শুকোচ্ছে ক্ষেত, মাথায় হাত ধান চাষিদের

আকাশে মেঘ কিন্তু বৃষ্টি নেই: তীব্র অনাবৃষ্টিতে শুকোচ্ছে ক্ষেত, মাথায় হাত ধান চাষিদের

আকাশজুড়ে মেঘ কিন্তু নেই বৃষ্টি: শুকিয়ে কাঠ ধানক্ষেত

শ্রাবণ-ভাদ্রের ভরা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশে কালচে মেঘের আনাগোনা থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বর্ষণ। ফলে তীব্র অনাবৃষ্টির কবলে পড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। সময় পার হয়ে গেলেও পানির অভাবে রোয়া ধান লাগাতে পারছেন না বহু চাষি। আর যেসব জমিতে ইতিমধ্যেই ধানের চারা রোপণ করা হয়েছিল, পর্যাপ্ত সেচের অভাবে সেই মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এক ফোঁটা বৃষ্টির আশায় আকাশের দিকে চেয়ে থেকে এখন চোখের জলে বুক ভাসাচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ সূত্রে খবর, চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে খাল-বিল, নালা ও জলাশয়গুলোতে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যে সমস্ত চাষি শ্যালকোর সাহায্যে কৃত্রিম সেচ দিয়ে জমি বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, অতিরিক্ত ডিজেল ও বিদ্যুতের খরচে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। ফলে ধান চাষের সার্বিক উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।

অনাবৃষ্টির ফলে তৈরি হওয়া সংকটসমূহ:

  • ধান রোপণে বিলম্ব: জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সময়মতো ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
  • রোপণ করা চারা নষ্ট: কাদা পানি শুকিয়ে মাটি ফেটে যাওয়ায় রোয়া চারাগুলো রোদ ও গরমে শুকিয়ে লাল হয়ে যাচ্ছে।
  • অতিরিক্ত সেচ খরচ: জলাশয়ে পানি না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলার পেছনে কৃষকদের অস্বাভাবিক বাড়তি খরচ হচ্ছে।
  • রোগবালাইয়ের প্রকোপ: পানির অভাবে এবং অতিরিক্ত তাপে শুকনো জমিতে ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে।

মাথায় হাত কৃষকদের: ঋণের বোঝা ও মহাজনী শঙ্কা

চাষের মৌসুমের শুরুতেই সার, বীজ এবং জমি প্রস্তুত করতে গিয়ে চাষিরা অনেকেই চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণে বাম্পার ফলনের আশা তো দূর, আসল পুঁজি ওঠাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেতের ফসল নষ্ট হতে দেখে গ্রামীণ পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে চরম হতাশার ছায়া।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষি দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে বিকল্প সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। কৃষকদের কম পানির প্রয়োজন হয় এমন বিকল্প ফসল চাষের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তবুও, বর্ষার এই ঘাটতি মেটাতে না পারলে সামনে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গ্রামীণ অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা।