রেশন কার্ড থাকলেই নয়, নির্দিষ্ট কার্ডধারীরাই পাবেন বিনামূল্যে চাল-গম, জানুন PMGKAY-এর নিয়ম
বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার কেন্দ্রীয় প্রকল্প
দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলির খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা বা PMGKAY চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর অধীনে থাকা যোগ্য পরিবার ও উপভোক্তাদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য এই বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু রেশন কার্ড থাকলেই প্রত্যেকে PMGKAY-এর বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাবেন না। সরকারি FAQ অনুযায়ী, এই সুবিধা NFSA-এর আওতাভুক্ত Antyodaya Anna Yojana বা AAY এবং Priority Households বা PHH রেশন কার্ডধারী পরিবার ও উপভোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য। তাই নিজের রেশন কার্ড কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
কতটা খাদ্যশস্য পাওয়া যায়?
PMGKAY-এর অধীনে খাদ্যশস্যের পরিমাণ উপভোক্তার রেশন কার্ডের শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। AAY পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতি পরিবার প্রতি মাসে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য এবং PHH শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রতি ব্যক্তি প্রতি মাসে ৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়ার বিধান রয়েছে। অর্থাৎ একই রেশন কার্ড থাকা সত্ত্বেও পরিবারভেদে বা সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী প্রাপ্য খাদ্যশস্যের পরিমাণ আলাদা হতে পারে।
- AAY পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ৩৫ কেজি খাদ্যশস্যের বিধান রয়েছে।
- PHH উপভোক্তার জন্য প্রতি ব্যক্তি প্রতি মাসে ৫ কেজি খাদ্যশস্যের বিধান রয়েছে।
- NFSA-এর আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট উপভোক্তারাই PMGKAY-এর বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পান।
- খাদ্যশস্যের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রেশন কার্ডের শ্রেণি গুরুত্বপূর্ণ।
- বিতরণ হয় সরকারি Public Distribution System বা PDS-এর মাধ্যমে।
কতদিন চলবে বিনামূল্যে রেশন?
কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩ সালের শেষ দিকে PMGKAY-এর অধীনে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ আরও পাঁচ বছর চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ব্যবস্থা ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮১.৩৫ কোটি NFSA উপভোক্তাকে এই সুবিধার আওতায় রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হল খাদ্যশস্যের খরচের চাপ কমিয়ে দেশের দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় পরিবারগুলিকে খাদ্যনিরাপত্তা দেওয়া।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য খাদ্য ভর্তুকির বড় অঙ্কের ব্যয় বহন করা হচ্ছে। বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দেওয়ার ফলে যোগ্য উপভোক্তাদের জন্য খাদ্যের আর্থিক বোঝা কমানোর পাশাপাশি Public Distribution System-এর মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
চাল-গম পাওয়ার ক্ষেত্রে কী জানা দরকার?
PMGKAY-এর আওতায় খাদ্যশস্য বলতে চাল, গম এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য খাদ্যশস্য অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোন রাজ্যে কোন ধরনের খাদ্যশস্য কতটা বিতরণ হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি বরাদ্দ ও PDS ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই কোনও নির্দিষ্ট রেশন দোকান থেকে প্রত্যেক উপভোক্তা একই ধরনের বা একই পরিমাণ খাদ্যশস্য পাবেন—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
রেশন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
যাঁরা বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের রেশন কার্ডের তথ্য এবং উপভোক্তার বিবরণ সঠিক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রেশন কার্ডের শ্রেণি, পরিবারের সদস্যসংখ্যা বা অন্যান্য তথ্য নিয়ে কোনও সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজ্য খাদ্য দফতর বা রেশন ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, PMGKAY-এর সুবিধা এবং রাজ্য সরকারের নিজস্ব রেশন প্রকল্প এক বিষয় নয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো বিভিন্ন রাজ্যে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের পাশাপাশি রাজ্যভিত্তিক খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থাও থাকতে পারে। ফলে কোনও ব্যক্তি ঠিক কতটা খাদ্যশস্য পাবেন, তা তাঁর রেশন কার্ডের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার উপর নির্ভর করবে।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর
মূল্যবৃদ্ধির সময়ে খাদ্যশস্যের খরচ কমাতে PMGKAY যোগ্য পরিবারগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু রেশন কার্ড থাকা যথেষ্ট নয়; উপভোক্তাকে NFSA-এর নির্দিষ্ট AAY বা PHH শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। তাই নিজের রেশন কার্ডের শ্রেণি ও প্রাপ্যতা যাচাই করেই বিনামূল্যে রেশনের সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
```