লিভ-ইন পার্টনারের প্রতারণা: প্রতারণার শিকার হলে আইনের কোন ধারায় মামলা করা যায়?

লিভ-ইন পার্টনারের প্রতারণা: প্রতারণার শিকার হলে আইনের কোন ধারায় মামলা করা যায়?

লিভ-ইন সম্পর্ক ও প্রতারণার আইনি রূপরেখা

দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যৌথ সম্মতিতে লিভ-ইন রিলেশনশিপ আইনত বৈধ হলেও, এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ বা আর্থিক ও শারীরিক শোষণের ঘটনা বিরল নয়। অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন সহবাস করা, বৈবাহিক তথ্য গোপন রাখা, কিংবা সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভারতীয় আইনি কাঠামো অনুযায়ী লিভ-ইন পার্টনারের এমন অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রতারণার ধরন (আর্থিক, শারীরিক, মানসিক বা সামাজিক) অনুযায়ী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং নারীদের সুরক্ষামূলক বিভিন্ন আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় থানায় বা আদালতে মামলা দায়ের করা যায়।

লিভ-ইন পার্টনারের প্রতারণার বিরুদ্ধে প্রধান আইনি ধারাসমূহ:

  • BNS Section ৬৯ (সাবেক বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে সহবাস): পরিচয় গোপন করে বা বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান।
  • BNS Section ৩১৮ (সাবেক IPC ৪২০ - প্রতারণা): ছলচাতুরি বা অসৎ উদ্দেশ্যে পার্টনারকে প্রতারিত করে কোনো অর্থ, সম্পত্তি বা চুক্তি আদায় করা।
  • BNS Section ৩১৬ (সাবেক IPC ৪০৬ - বিশ্বাসভঙ্গ): যৌথ বা ব্যক্তিগত অর্থ ও গয়না আমানত হিসেবে নিয়ে তা আত্মসাৎ বা ফেরত দিতে অস্বীকার করা।
  • BNS Section ৩৫১ (সাবেক IPC ৫০৬ - অপরাধমূলক হুমকি): বিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও হুমকি দেওয়া।
  • গার্হস্থ্য হিংসা আইন ২০০৫ (DV Act): শারীরিক, মানসিক বা আর্থিক নির্যাতনের শিকার নারী কর্তৃক সুরক্ষা, খোরপোষ ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি।

প্রতারণার ধরন অনুযায়ী মামলার আইনি প্রয়োগ

যদি কোনো পুরুষ সঙ্গী নিজের পূর্বের বিবাহ গোপন রেখে বা কখনোই বিয়ে করবেন না জেনেও 'বিয়ের প্রলোভন' দেখিয়ে লিভ-ইন সম্পর্কে যুক্ত হন, তবে ভুক্তভোগী নারী নতুন আইন **BNS Section 69**-এর অধীনে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, শুরুতে আন্তরিক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক ব্রেকআপ হলে তা এই ধারায় আসবে না; সম্পর্কের শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্য প্রমাণিত হতে হবে।

অন্যদিকে, সম্পর্কের সুবাদে একসাথে ব্যবসা বা ফ্ল্যাট কেনার নামে টাকা নিয়ে ফেরত না দিলে বা বিশ্বাসভঙ্গ করলে ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Breach of Trust) হিসেবে মামলা চালানো যায়।

প্রতারণার শিকার হলে কীভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন?

প্রতারণার ঘটনা ঘটলে সময় নষ্ট না করে তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত। প্রথমত, চ্যাট হিস্ট্রি, কল রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেনের বিবরণ বা যৌথ চুক্তিপত্রের মতো সমস্ত ডিজিটাল ও কাগজের প্রমাণ সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর লিখিত অভিযোগপত্র নিয়ে স্থানীয় থানায় (Police Station) এফআইআর (FIR) দায়ের করতে হবে। পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলে জেলা পুলিশ সুপার (SP/CP) বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট এলাকা প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (Magistrate Court) ডাইরেক্ট পিটিশন দায়ের করার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। প্রয়োজনে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (DLSA) মাধ্যমে বিনামূল্যে সরকারি আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া সম্ভব।