ডিভোর্সের পর সন্তানের পাসপোর্টে অভিভাবকের নাম: জানুন পাসপোর্টের আইনি নিয়মাবলী

ডিভোর্সের পর সন্তানের পাসপোর্টে অভিভাবকের নাম: জানুন পাসপোর্টের আইনি নিয়মাবলী

ডিভোর্সের পর সন্তানের পাসপোর্টে অভিভাবকের নামের আইনি নিয়ম

বিবাহবিচ্ছেদের পর কাস্টডি বা অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো যেমন স্পর্শকাতর, ঠিক তেমনই সন্তানের আইনি নথিপত্র তৈরির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে ডিভোর্সের পর একক অভিভাবক (Single Parent) হিসেবে সন্তানের পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়নের সময় মা কিংবা বাবার নাম ব্যবহার এবং অপর পক্ষের সম্মতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়।

অতীতে পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মা-বাবা উভয়ের নাম এবং উপস্থিতি প্রায় বাধ্যতামূলক ছিল। তবে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দিল্লি হাইকোর্ট সহ সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পর এই নিয়মে বড় ধরণের সংস্কার আনা হয়েছে, যা একক অভিভাবকদের জন্য বিষয়টি অনেক সহজ করেছে।

পাসপোর্টে অভিভাবকের নাম ও পাসপোর্ট আবেদনের প্রধান নিয়মাবলী:

  • একক অভিভাবকের নাম ব্যবহারের অধিকার: বর্তমান পাসপোর্ট নিয়ম অনুযায়ী, একক পিতা বা মাতা (Single Parent) হিসেবে আবেদন করলে পাসপোর্টে কেবল মা অথবা বাবার যেকোনো একজনের নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট। অপর অভিভাবকের নাম বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া বা না দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।
  • আদালতের কাস্টডি ডিগ্রি (Custody Order): ডিভোর্স মামলায় পারিবারিক আদালত যদি কোনো এক অভিভাবককে সন্তানের পূর্ণ আইনি ও শারীরিক কাস্টডি (Sole Legal Custody) দিয়ে থাকেন, তবে সেই ডিগ্রি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিয়ে অপর অভিভাবকের সই ছাড়াই পাসপোর্ট তৈরি করা যায়।
  • অপর অভিভাবকের এনওসি বা সম্মতি (NOC / Annexure-C): যদি ডিভোর্স প্রক্রিয়া চলমান থাকে বা আদালতে কাস্টডি মামলা অমীমাংসিত থাকে, তবে অপর অভিভাবকের অনাপত্তিপত্র (No Objection Certificate) প্রয়োজন হতে পারে। তবে অপর অভিভাবক যদি কোনো যোগাযোগ না রাখেন বা অহেতুক বাধা সৃষ্টি করেন, তবে 'Annexure-C' ডিক্লারেশন ফর্ম জমা দিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করা সম্ভব।
  • অভিভাবক ত্যাগের ক্ষেত্র (Annexure-D): মা বা বাবা যদি সন্তানকে ত্যাগ করে থাকেন বা কোনো খোঁজ না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে একক অভিভাবক হিসেবে 'Annexure-D' স্বঘোষিত হলফনামা (Affidavit) দাখিল করে সন্তানের পাসপোর্ট আবেদন সম্পন্ন করা যায়।
  • আইনি অভিভাবকের পরিবর্তন নয়: পাসপোর্টে নাম থাকার অর্থ এই নয় যে আদালত নির্ধারিত অপর অভিভাবকের সাক্ষাৎ অধিকার (Visitation Rights) বা আইনি হেফাজত বাতিল হয়ে গেছে। পাসপোর্ট কেবল একটি ভ্রমণ নথি এবং পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।

পাসপোর্ট আবেদনের সময়ে যেসব নথিপত্র প্রয়োজন

ডিভোর্সের পর সন্তানের পাসপোর্টের আবেদন করার সময় একক অভিভাবককে নির্দিষ্ট কিছু জরুরি কাগজপত্র পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে জমা দিতে হয়। এর মধ্যে ডিভোর্সের চূড়ান্ত ডিক্রি বা ডিগ্রি কপি, পারিবারিক আদালতের কাস্টডি আদেশের কপি, আবেদনকারী অভিভাবকের পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং প্রয়োজনীয় স্বঘোষিত হলফনামা (Annexure C বা D) অন্তর্ভুক্ত।

যদি আদালতের চূড়ান্ত আদেশে সন্তানকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ওপর কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা (Stay Order) না থাকে, তবে কাস্টডি পাওয়া অভিভাবক এককভাবেই পাসপোর্টের আবেদন করতে পারেন। পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম সহজ হওয়ার কারণে একক পিতা বা মাতা হিসেবে সন্তানের পড়াশোনা বা ভ্রমণের জন্য আইনি নথিপত্র তৈরি করা আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত হয়েছে।