বিচ্ছেদের পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাক্তন সঙ্গীর ছবি-ভিডিও ডিলিট: আদালতের কড়া নির্দেশ

বিচ্ছেদের পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রাক্তন সঙ্গীর ছবি-ভিডিও ডিলিট: আদালতের কড়া নির্দেশ

ডিভোর্সের পর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি-ভিডিও ডিলিটের সুনির্দিষ্ট নিয়ম

বিবাহবিচ্ছেদের পর ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা এবং সম্মান রক্ষা করা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আইনি দিক। বর্তমান ডিজিটাল যুগে বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের পর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে (যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব) প্রাক্তন সঙ্গীর ছবি, ভিডিও বা যৌথ মুহূর্তগুলো রেখে দেওয়া অথবা অনুমতি ছাড়া তা ব্যবহার করা নিয়ে বহু আইনি জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। সাম্প্রতিক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সর্বোচ্চ আদালত ও উচ্চ আদালতগুলো স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তন সঙ্গীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাখা বা প্রচার করা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের (Right to Privacy) চরম লঙ্ঘন।

ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়াকে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা বা ছবি-ভিডিও পোস্ট রেখে মানসিক চাপ সৃষ্টি করার প্রবণতা বন্ধ করতেই আইনি কঠোরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইন ও আদালতের নির্দেশের প্রধান নিয়মাবলী:

  • ছবি ও ভিডিও অপসারণের আদেশ: বিবাহবিচ্ছেদের চূড়ান্ত ডিগ্রি বা ডিক্রি লাভের সময় আদালত উভয় পক্ষকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পরস্পরের সমস্ত যৌথ ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত নথিপত্র সম্পূর্ণ ডিলিট বা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতে পারেন।
  • সম্মতি ছাড়া ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: বিচ্ছেদের পর প্রাক্তন সঙ্গীর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা, ঝুলিয়ে রাখা বা পুনর্প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy): সংবিধানে স্বীকৃত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সম্মানের সাথে বাঁচার অধিকারের আওতায় কোনো ব্যক্তি তাঁর প্রাক্তন সঙ্গীকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যৌথ ডিজিটাল রেকর্ড মুছে ফেলার দাবি জানাতে পারেন।
  • সাইবার অপরাধ ও হয়রানি: প্রাক্তন সঙ্গীকে অপমান, ব্ল্যাকমেইল বা মানসিক হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে যদি ছবি-ভিডিও ব্যবহার করা হয়, তবে তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার অপরাধ আইনের (IT Act) আওতায় গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
  • আদালতের অবমাননা: বিচ্ছেদের সমঝোতাপত্রে (Settlement Agreement) যদি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবি মোছার শর্ত যুক্ত থাকে এবং কোনো পক্ষ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের অবমাননা (Contempt of Court) মামলা করা সম্ভব।

ছবি বা ভিডিও ডিলিট না করলে আইনি করণীয়

যদি বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তন সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ছবি বা ভিডিও সরাতে অস্বীকার করেন, তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি সরাসরি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনি নোটিশ পাঠাতে পারেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে কপিরাইট বা প্রাইভেসি লঙ্ঘনের রিপোর্ট জমা দিয়ে কন্টেন্ট সরানোর ব্যবস্থা করা যায়।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, বিবাহবিচ্ছেদের সমঝোতা চুক্তি (Mutual Settlement Agreement) তৈরি করার সময়ই সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্রোফাইল থেকে যাবতীয় ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ডিলিট করার শর্তটি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এর ফলে বিচ্ছেদের পর কোনো পক্ষকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়রানি বা মানসিক উদ্বেগের শিকার হতে হয় না।