ভিজিটেশন রাইটস: ডিভোর্সের পর সন্তানকে দেখার ও কাছে রাখার আইনি নিয়ম
ভিজিটেশন রাইটস বা সন্তানকে কাছে রাখার আইনি নিয়ম কী?
বিবাহবিচ্ছেদের পর কাস্টডি মামলায় সাধারণত যেকোনো একজন অভিভাবক (মা বা বাবা) সন্তানের দৈনন্দিন অভিভাবকত্ব বা 'Physical Custody' পান। তবে অপর অভিভাবক যাতে সন্তান থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়েন, সে জন্য আইনে রয়েছে 'ভিজিটেশন রাইটস' (Visitation Rights) বা দেখার অধিকার। এটি কেবল মা বা বাবার অধিকার নয়, বরং সন্তানের মানসিক বিকাশ ও নিরাপত্তার স্বার্থে উভয় অভিভাবকের স্নেহ পাওয়ার মৌলিক অধিকারকে নিশ্চিত করার একটি আইনি ব্যবস্থা।
ভারতের পারিবারিক আদালতগুলো (Family Court) স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, বিচ্ছেদের তিক্ততা সত্ত্বেও সন্তানকে অপর অভিভাবকের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, যদি না তা সন্তানের সুরক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
আইন অনুযায়ী ভিজিটেশন রাইটসের প্রধান নিয়মাবলী:
- সাপ্তাহিক ও ছুটির দিনে সাক্ষাৎ: সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে (যেমন শনিবার বা রবিবার) নির্দিষ্ট কিছু ঘণ্টার জন্য অপর অভিভাবককে সন্তানের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
- ওভারনাইট ভিজিটেশন (রাত্রিযাপন): শিশু কিছুটা বড় ও পরিপক্ক হলে ছুটির দিনে বা উইকেন্ডে নিজের বাড়িতে সন্তানকে নিয়ে গিয়ে রাত কাটানোর (Overnight Stay) অধিকার দেওয়া হতে পারে।
- স্কুলের ছুটি ও উৎসবের ভাগাভাগি: গরমের ছুটি, পূজো বা ঈদের ছুটি কিংবা প্রাক-শীতকালীন অবকাশের সময় মা ও বাবার মধ্যে সমান বা আনুপাতিক হারে দিন ভাগ করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
- ডিজিটাল এক্সেস (Virtual Visitation): সশরীরে দেখা করার পাশাপাশি ভিডিও কল, ফোন কল বা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আইনি অনুমোদন থাকে।
- আদালতের মাধ্যমে মিডিয়েশন সেন্টার ব্যবহার: চরম বিবাদ থাকলে চিলড্রেন কমপ্লেক্স বা পারিবারিক আদালতের মধ্যস্থতা কেন্দ্রে (Mediation Center) নিরপেক্ষ পরিবেশে সন্তানকে দেখা করার ব্যবস্থা করা হয়।
ভিজিটেশন রাইটসে বাধা দিলে বা নিয়ম ভাঙলে করণীয়
অনেক সময় কাস্টডি পাওয়া অভিভাবক ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে অপর পক্ষকে সন্তানের সাথে দেখা করতে বাধা দেন বা আদালতের নিয়ম লঙ্ঘন করেন। আইন অনুযায়ী এই ধরনের আচরণকে 'আদালতের অবমাননা' (Contempt of Court) হিসেবে গণ্য করা হয়।
যদি কাস্টডিধারী অভিভাবক অহেতুক ভিজিটেশন রাইটসে বাধা সৃষ্টি করেন, তবে ভুক্তভোগী মা বা বাবা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনি আবেদন দাখিল করতে পারেন। একাধিকবার আদেশ অমান্য করলে আদালত কাস্টডি শর্ত সংশোধন করতে পারেন এবং এমনকি বাচ্চার হেফাজত অপর পক্ষের কাছে হস্তান্তর করার মতো কঠোর নির্দেশও দিতে পারেন। পরিশেষে, বাচ্চার স্বাভাবিক মানসিক বৃদ্ধির জন্য পিতা-মাতা উভয়েরই উচিত আইনি সীমার মধ্যে থেকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই অধিকার পালন করা।