আর্টিকেল ১৪২ ও ডিভোর্স: সুপ্রিম কোর্ট কখন ৬ মাসের অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি বিচ্ছেদ দেয়?
আর্টিকেল ১৪২ (Article 142) ও সরাসরি ডিভোর্স কী?
ভারতীয় সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ হলো সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া একটি বিশেষ এবং সার্বিক আইনি ক্ষমতা, যার মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার (Complete Justice) নিশ্চিত করার জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণ পারিবারিক আদালত বা হাইকোর্টে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রচলিত ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড (Cooling-off Period) এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি বা তাৎক্ষণিক ডিভোর্স মঞ্জুর করতে পারেন।
দাম্পত্য সম্পর্ক যদি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে আর কোনোভাবেই জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই, তখন দীর্ঘ আইনি জটিলতায় দম্পতিকে ঝুলিয়ে না রেখে আইনি মুক্তি দিতেই এই বিশেষ সংবিধানিক ক্ষমতার ব্যবহার করা হয়।
কখন সুপ্রিম কোর্ট ৬ মাসের অপেক্ষা ছাড়া সরাসরি ডিভোর্স দেন?
- সম্পর্ক সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার অযোগ্য হলে (Irretrievable Breakdown): স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক যদি সম্পূর্ণ আবেগহীন ও মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে এবং তাদের পুনরায় একত্রে থাকার কোনো আশাই অবশিষ্ট না থাকে।
- দীর্ঘদিন পৃথক বসবাস: যদি দম্পতি দীর্ঘদিন (যেমন বহু বছর ধরে) সম্পূর্ণ আলাদা বসবাস করছেন এবং একের পর এক মামলা লড়ছেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
- ব্যর্থ মধ্যস্থতা (Failed Mediation): আদালতের মধ্যস্থতা কেন্দ্র (Mediation Center) বা অন্যান্য উপায়ে সকল প্রকার সমঝোতার চেষ্টা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হলে।
- খোরপোশ ও সম্পত্তির সমাধান: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক লেনদেন, এককালীন খোরপোশ (Permanent Alimony) এবং যৌথ সম্পত্তির ভাগাভাগি পুরোপুরি নিষ্পত্তিকৃত হয়ে গেলে।
- সন্তানের দায়িত্বের বিষয়ে সুস্পষ্ট চুক্তি: সন্তানের হেফাজত (Child Custody) এবং ভিজিটেশন রাইটস নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তি হয়ে থাকলে সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত ৬ মাস ওয়েটিং পিরিয়ডের প্রয়োজন মনে করেন না।
ঐতিহাসিক রায় এবং সংবিধানিক ক্ষমতার গুরুত্ব
সুপ্রিম কোর্টের সংবিধান বেঞ্চ 'শিল্পা সাইলেশ বনাম বরুণ শ্রীনিবাসন' (Shilpa Sailesh v. Varun Sreenivasan, 2023) ঐতিহাসিক মামলায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক সম্মতির ডিভোর্সে ৬ মাসের বাধ্যতামূলক অপেক্ষার নিয়ম মওকুফ করতে পারেন। এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে একতরফা আবেদনের প্রেক্ষিতেও যদি দেখা যায় বিয়েটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে, তবে নিম্ন আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি ডিভোর্সের ডিগ্রি প্রদান করতে পারেন।
তবে সুপ্রিম কোর্ট এই ক্ষমতা ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক। এটি সাধারণ আইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। নিছক আবেগ বা সাময়িক মনোমালিন্যের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করা হয় না। শুধুমাত্র সেখানেই এটি প্রয়োগ করা হয়, যেখানে বৈবাহিক সম্পর্কটি বাস্তবে মৃত এবং বিলম্বিত বিচারপ্রক্রিয়া উভয় পক্ষের জন্য চরম মানসিক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।