সংসার টেকানোর শেষ চেষ্টা: ফ্যামিলি কোর্টের কাউন্সেলিং ও মিডিয়েশন যেভাবে কাজ করে
ফ্যামিলি কোর্টের কাউন্সেলিং ও মিডিয়েশন কী?
দাম্পত্য কলহ যখন চরম আকার ধারণ করে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়, তখন সরাসরি ডিভোর্স বা আইনি শাস্তির দিকে না গিয়ে সংসারটি বাঁচানো সম্ভব কি না—আদালত প্রথম সেই চেষ্টা চালান। ভারতের পারিবারিক আদালত আইন (Family Courts Act, 1984) অনুযায়ী, বৈবাহিক সংক্রান্ত মামলাগুলোতে আইনি লড়াই শুরু হওয়ার আগে উভয় পক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে কাউন্সেলিং বা মধ্যস্থতার (Mediation) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এটি মূলত কোনো বিচারিক শাস্তি নয়; বরং একজন অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ কাউন্সেলর বা বিচারকের উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করে পুনরায় সংসার টেকানোর একটি সরকারি সুযোগ।
ফ্যামিলি কোর্টের কাউন্সেলিং যেভাবে কাজ করে:
- বাধ্যতামূলক প্রাথমিক পদক্ষেপ: ডিভোর্স, খোরপোশ বা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের (RCR) মামলা দায়ের করার পর আদালত প্রথম শুনানির সময়েই মামলাটি পারিবারিক আদালতের কাউন্সেলিং সেল বা মিডিয়েশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেন।
- গোপনীয়তা রক্ষা (Confidentiality): কাউন্সেলিং সেশনে স্বামী-স্ত্রী যে কথা বা ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। সেশনের কোনো কথা বা স্বীকারোক্তি পরবর্তীতে মূল মামলায় বিপক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
- একক ও যৌথ সেশন: অভিজ্ঞ কাউন্সেলর প্রথমে স্বামী ও স্ত্রীকে আলাদাভাবে বসিয়ে তাঁদের ক্ষোভ ও সমস্যার কথা শুনেন। পরবর্তীতে উভয়কে একসাথে বসিয়ে পারস্পরিক মনোমালিন্য সমাধানের পথ খোঁজা হয়।
- সমস্যার আসল কারণ চিহ্নিতকরণ: তৃতীয় পক্ষ বা শ্বশুরবাড়ির হস্তক্ষেপ, আর্থিক টানাটানি, অহংকার বা ভুল বোঝাবুঝির মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করে দম্পতিকে বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়া হয়।
- সন্তানের স্বার্থকে প্রাধান্য: দম্পতির যদি সন্তান থাকে, তবে কাউন্সেলর প্রধান নজর দেন বাচ্চার ভবিষ্যতের ওপর। বিচ্ছেদের ফলে শিশুর মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি কতটা হতে পারে, তা উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে সংসার জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা হয়।
কাউন্সেলিং সফল বা ব্যর্থ হলে পরবর্তী আইনি ধাপ
যদি কাউন্সেলিং সফল হয়, তবে স্বামী-স্ত্রী একটি লিখিত সমঝোতাপত্রে (Settlement Agreement) স্বাক্ষর করে পুনরায় একত্রে থাকা শুরু করতে পারেন এবং দায়ের করা মামলাগুলো আদালত থেকে তুলে নেওয়া হয়।
পক্ষান্তরে, একাধিক সেশনের পরও যদি মধ্যস্থতা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ (Mediation Failed) হয়, তবে কাউন্সেলর আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দেন। এর পরই পারিবারিক আদালতে প্রথাগত আইনি বিচার এবং মামলার মূল শুনানি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সংক্ষেপে, আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ মানসিক ও আর্থিক চাপ এড়িয়ে সংসার বাঁচানোর জন্য আদালতের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম।