তথ্য জানার অধিকার (RTI): সরকারি কাজের হিসেব চাইতে কীভাবে আরটিআই করবেন?

তথ্য জানার অধিকার (RTI): সরকারি কাজের হিসেব চাইতে কীভাবে আরটিআই করবেন?

RTI কী এবং কেন করবেন?

তথ্য জানার অধিকার বা Right to Information (RTI) ভারতের নাগরিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অধিকার। তথ্যের অধিকার আইন, ২০০৫-এর মাধ্যমে নাগরিকরা সরকারি দফতর ও নির্দিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য চাওয়ার সুযোগ পান। কোনও রাস্তা তৈরিতে কত টাকা খরচ হয়েছে, সরকারি প্রকল্পে কত অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, কোনও কাজের অনুমোদন কবে হয়েছে বা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার—এই ধরনের তথ্য জানতেও RTI ব্যবহার করা যায়।

সরকারি কাজের হিসেব জানতে কী তথ্য চাইবেন?

RTI করার সময় প্রশ্নটি যতটা সম্ভব নির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত। শুধু “এই কাজ কেন হয়নি?” এমন প্রশ্ন না করে সংশ্লিষ্ট নথি, অনুমোদন, বরাদ্দ বা ব্যয়ের তথ্য চাওয়া বেশি কার্যকর। যেমন কোনও রাস্তা তৈরির কাজ নিয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পের অনুমোদিত অর্থের পরিমাণ, কাজের অনুমোদনের তারিখ, ওয়ার্ক অর্ডারের কপি, ঠিকাদারের নাম, বিলের বিবরণ এবং কাজ সম্পন্ন হওয়ার নথি চাওয়া যেতে পারে।

  • প্রকল্পের মোট অনুমোদিত বাজেট কত ছিল তা জানতে চাইতে পারেন।
  • কাজের জন্য কত টাকা বরাদ্দ বা খরচ হয়েছে তার নথি চাইতে পারেন।
  • ওয়ার্ক অর্ডার, টেন্ডার বা অনুমোদন সংক্রান্ত নথির কপি চাইতে পারেন।
  • কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতর বা কর্মকর্তার তথ্য চাইতে পারেন।
  • প্রকল্পের বিল, পেমেন্ট বা কাজ সম্পন্ন হওয়ার রিপোর্টের তথ্য চাইতে পারেন।
  • প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পরিদর্শনের সুযোগও চাওয়া যায়।

কীভাবে RTI আবেদন করবেন?

RTI আবেদন সংশ্লিষ্ট Public Information Officer (PIO)-এর কাছে করা যায়। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমেও আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। রাজ্য সরকারের দফতরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের RTI ব্যবস্থা বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। তাই কোন সরকারি দফতরের কাছে তথ্য রয়েছে, প্রথমে সেটি চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

আবেদনে নিজের নাম ও যোগাযোগের তথ্য দিয়ে কোন তথ্য প্রয়োজন তা পরিষ্কারভাবে লিখুন। একাধিক প্রশ্ন থাকলে সেগুলি আলাদা নম্বরে সাজিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে আবেদনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ না করে সরাসরি প্রয়োজনীয় নথি বা তথ্য চাওয়া ভালো।

RTI আবেদনের জন্য কি ফি লাগে?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে সাধারণ RTI আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ১০ টাকা আবেদন ফি প্রযোজ্য। তবে রাজ্যভেদে নিয়ম ও ফি-এর পরিমাণ আলাদা হতে পারে। নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারী, যেমন দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ফি মকুবের ব্যবস্থা রয়েছে।

কত দিনের মধ্যে তথ্য পাওয়া যায়?

সাধারণ ক্ষেত্রে RTI আইনের অধীনে আবেদন পাওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে জীবন বা স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যের ক্ষেত্রে দ্রুততর সময়সীমা প্রযোজ্য। আবেদন ভুল কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে।

তথ্য না পেলে কী করবেন?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না পাওয়া গেলে, অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে বা তথ্যের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হলে আবেদনকারী First Appellate Authority-র কাছে প্রথম আপিল করতে পারেন। এরপর প্রয়োজন হলে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে Information Commission-এর কাছে দ্বিতীয় আপিল বা অভিযোগের সুযোগ থাকতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: RTI মূলত সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা বা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন তথ্য পাওয়ার একটি আইনি ব্যবস্থা। কোনও কর্মকর্তাকে নতুন করে ব্যাখ্যা, মতামত বা অনুমান তৈরি করে দিতে বাধ্য করার জন্য RTI ব্যবহার করা যায় না। তাই আবেদন করার সময় “কেন” ধরনের সাধারণ প্রশ্নের বদলে বিদ্যমান নথি, রেকর্ড, আদেশ, বিল বা নির্দিষ্ট তথ্য চাওয়া বেশি কার্যকর।

RTI করার আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

সরকারি কোনও কাজের হিসেব জানতে চাইলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট দফতর ও Public Information Officer চিহ্নিত করুন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্যকে ছোট ছোট নির্দিষ্ট প্রশ্নে ভাগ করে আবেদন করুন এবং আবেদনের একটি কপি ও জমা দেওয়ার প্রমাণ নিজের কাছে রাখুন। তথ্য না পাওয়া বা প্রত্যাখ্যাত হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলের পথ ব্যবহার করা যায়। নির্দিষ্ট কোনও RTI আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম ও প্রক্রিয়া যাচাই করে আবেদন করা সবচেয়ে নিরাপদ।