ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কি টমেটো বা ডাল খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে? জেনে নিন সঠিক তথ্য।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কি টমেটো বা ডাল খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে? জেনে নিন সঠিক তথ্য
রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা একটু বাড়লেই আমাদের চারপাশের মানুষ নানা ধরনের উপদেশ দিতে শুরু করেন। বিশেষ করে রুটিন থেকে সবার আগে বাদ দিতে বলা হয় প্রিয় ডাল এবং টমেটো। অনেকেরই বদ্ধমূল ধারণা রয়েছে যে, টমেটো খেলে বা ডাল খেলেই বুঝি জয়েন্টে জয়েন্টে তীব্র ব্যথা বা গেঁটেবাতের সমস্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ভয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলিও অনেকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা। লোকমুখে প্রচলিত এই ধারণার সঙ্গে বাস্তবের চিকিৎসাগত তথ্যের রয়েছে বিরাট ফারক।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে সত্যি কি টমেটো বা ডাল খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যি, তা নিয়ে চিকিৎসকদের রয়েছে স্পষ্ট মতামত। ইউরিক অ্যাসিডের সঙ্গে এই খাবারগুলির সম্পর্ক এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: রিউমাটোলজিস্ট ও পুষ্টিবিদদের মতে, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আসা পিউরিন (Purine) মানবদেহের ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে মাংস বা সামুদ্রিক মাছের মতো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না, তাই ডাল বা টমেটো পুরোপুরি বাদ দেওয়া সবসময় জরুরি নয়।
- ডাল খাওয়ার আসল সত্যি: ডালে প্রোটিন ও পিউরিন থাকলেও পরিমিত পরিমাণে মুগ বা মসুরের ডাল খেলে ইউরিক অ্যাসিডের রোগীরা সাধারণত নিরাপদেই থাকেন, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত।
- টমেটো নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা: টমেটোতে পিউরিনের পরিমাণ অত্যন্ত কম থাকে; তাই এটি নিয়ে অযথা ভয়ের কিছু নেই, তবে যাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অ্যাসিড বা বিশেষ অ্যালার্জির কারণে মানা করেন, তাঁরা সীমিত রাখতে পারেন।
- যে খাবারগুলি সত্যিই বর্জনীয়: রেড মিট, কলিজা, অ্যালকোহল এবং সুগার-সুইট বা মিষ্টি পানীয় রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা মারাত্মক দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, যেগুলি কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা দরকার।
- জলের ভূমিকা ও মেটাবলিজম: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে কিডনি সহজেই প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করে দিতে পারে।
সচেতন ডায়েট ও সুস্থ জীবন
ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার ভয়ে অকারণে পুষ্টিকর খাবার যেমন ডাল বা টমেটো পুরোপুরি খাদ্যতালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সুনির্দিষ্ট পরিমাপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সুষম খাবার খেলে সহজেই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অন্ধ বিশ্বাসের বদলে সঠিক তথ্য জেনে খাবার নির্বাচন করাই হলো ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপনের প্রধান চাবিকাঠি।