বাংলার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলাদেশি নম্বর থেকে প্রাণনাশের হুমকি, ডিজির দ্বারস্থ
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাণনাশের হুমকি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশ থেকে আসা একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় নম্বরের মাধ্যমে ধারাবাহিক প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো একাধিক বার্তায় তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন।
কোন সময় থেকে হুমকি আসছিল?
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ জুন থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন বাংলাদেশি নম্বর থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক হুমকি বার্তা আসে। হুমকিদাতারা তাঁকে সরাসরি প্রাণে মেরে ফেলার কথা জানায়। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা ও তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
অভিজিৎ রায়ের মতো হত্যার হুমকি
হুমকি বার্তাগুলির মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০১৫ সালে ঢাকায় নিহত মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মতো হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি হুমকি বার্তায় একজন বিধায়কের ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিরোধী দলনেতা
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৬ সালের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বা Leader of Opposition (LoP) হিসেবে নির্বাচিত হন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই হুমকির ঘটনা নিছক ব্যক্তিগত বিষয় নয় এবং এর পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয় জড়িয়ে থাকায় তিনি সরাসরি রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করেছেন।
ডিজির কাছে লিখিত অভিযোগ
হুমকির বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরগুলি উল্লেখ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে ধারাবাহিক হুমকি বার্তার বিষয়টি তুলে ধরে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
সাইবার ক্রাইম ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দিক
বাংলাদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি সাইবার ক্রাইম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের দিক থেকেও খতিয়ে দেখা হতে পারে। হুমকিদাতাদের প্রকৃত পরিচয়, ব্যবহৃত নম্বরের উৎস এবং বার্তাগুলির পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তার দাবি
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে দেশের বাইরে থেকে হুমকি পাঠানোর অভিযোগ সত্যি হলে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
একজন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ হুমকিগুলির সত্যতা, উৎস এবং সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ জুন থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশি নম্বর থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক প্রাণনাশের হুমকি আসে। হুমকির বিষয়টি জানিয়ে তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে সাইবার ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।