মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে, বিশ্ববাজারে বাড়ছে উদ্বেগ
১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে ফের চাপে তেলের বাজার
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড বুধবার ব্যারেলপ্রতি ১০১.২১ ডলারে লেনদেন শেষ করেছে। বৃহস্পতিবারও দাম ১০০ ডলারের উপরে রয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
ব্রেন্ট ক্রুডের দামে বড় উত্থান
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একদিনে প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেড়ে ১০১.২১ ডলারে পৌঁছয়। দিনের মধ্যে দাম ১০১.৫৮ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। মার্কিন বাজারের WTI ক্রুডও প্রায় ৩.২৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.০৫ ডলারে বন্ধ হয়েছে। দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই মে মাসের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
বৃহস্পতিবারও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ১০১ ডলারের আশপাশে এবং WTI ৯৬ ডলারের উপরে ছিল। অর্থাৎ একদিনের বৃদ্ধির পরও তেলের বাজারে চাপ কমেনি। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতই মূল কারণ
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং এর জেরে জাহাজ চলাচলে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাকে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ইরান জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
হরমুজ প্রণালিতে নজর গোটা বিশ্বের
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করত। বর্তমানে সংঘাতের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, লোহিত সাগর এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামোর আশপাশে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে ঝুঁকি হিসাব করে তেলের দাম নির্ধারণ করছেন। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের উপরে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পরিবহণ, উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে পেট্রোল, ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির দামেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জ্বালানি খরচ বাড়লে পণ্য পরিবহণের খরচও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবার দামের উপর পড়তে পারে। ফলে ইতিমধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির চাপের মধ্যে থাকা দেশগুলির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। :contentReference[oaicite:6]{index=6}
শেয়ারবাজারেও উদ্বেগ
তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে দেখা যাচ্ছে। এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার চাপ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের গতিপথ এবং অন্যদিকে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তেলের দাম আরও বাড়লে বিভিন্ন দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হার নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। :contentReference[oaicite:7]{index=7}
আগামী দিনে কোন দিকে যাবে তেলের দাম?
এখন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের নজর মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির দিকে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে বা তেল সরবরাহের উপর নতুন করে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে দাম আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে সংঘাত কমলে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে তেলের দামে কিছুটা চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আগামী কয়েকদিন তেলের বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, জাহাজ চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রতিটি নতুন খবরের উপরেই তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে। :contentReference[oaicite:8]{index=8}