মুর্শিদাবাদে বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, আড়াই বছর পর ১০ বছরের জেল
বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ
আড়াই বছর আগে মুর্শিদাবাদের সালার থানা এলাকায় একটি বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় অভিযুক্ত যুবককে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। বুধবার কান্দি মহকুমা আদালত অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিয়েছে। পাশাপাশি নির্যাতিতাকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি। ওই দিন মুর্শিদাবাদের সালার থানার অন্তর্গত কাগ্রাম এলাকায় একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন তরুণী। তাঁর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। অভিযোগ, সেখান থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাইকে করে তাঁকে কাগ্রাম ক্যানাল মোড় সংলগ্ন একটি আশ্রমের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর উপর ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর তরুণী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের
ঘটনার পর তরুণীর বাবা ওই রাতেই সালার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তের পর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর মামলাটি কান্দি আদালতে নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছয়।
নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তরুণীকে প্রথমে সালার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কান্দিতে স্থানান্তর করা হয়। মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬, ৩৪১ এবং ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতে তিনটি ধারাতেই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মামলায় মোট ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারকের আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। বুধবার সাজা ঘোষণা করা হয়।
- ঘটনাটি ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি সালারের কাগ্রাম এলাকায় ঘটে।
- তরুণী একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
- অভিযোগ অনুযায়ী, সেখান থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
- ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় অভিযুক্তকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- আদালত নির্যাতিতাকে আড়াই লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
- মামলায় মোট ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল।
আড়াই বছর পর আদালতের রায়
ঘটনার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। এই সময়ের মধ্যে তদন্তের নথি, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়। সমস্ত তথ্য পর্যালোচনা করার পর আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে। এরপর বুধবার সাজা ঘোষণা করা হয়। রায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের এই রায়ে নির্যাতিতার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। তবে অভিযুক্তের পরিবার রায়ের সঙ্গে একমত নয়। তারা আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে মামলাটি পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে গড়াতে পারে।
মামলার পরবর্তী দিক
মুর্শিদাবাদের এই মামলায় আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হল। তবে অভিযুক্ত পক্ষ উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হলে পরবর্তী শুনানিতে উচ্চ আদালত মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলি পর্যালোচনা করবে।
এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নির্যাতিতার জন্য ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এখন নজর থাকবে অভিযুক্ত পক্ষ উচ্চ আদালতে আবেদন করলে সেখানে মামলার পরবর্তী আইনি গতিপথ কী হয়।