রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০% শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পথে মার্কিন হাউস
রুশ জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর ১০০% শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পথে মার্কিন হাউস
রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে মার্কিন সেনেটের পর এবার দেশটির প্রতিনিধি পরিষদেও (US House of Representatives) অত্যন্ত কঠোর একটি বিল অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বহুল আলোচিত 'লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬' (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026) নামের এই বিলটিতে রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত গৌণ বা সেকেন্ডারি শুল্ক (Secondary Tariffs) আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় নির্বাহের মূল উৎস ও আর্থিক জোগান পুরোপুরি বন্ধ করাই এই নতুন আইন আনার প্রধান লক্ষ্য। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক বসানোর একচ্ছত্র ক্ষমতা চলে আসবে, যারা গত এক বছরে রাশিয়ার শীর্ষ তেল ও গ্যাস আমদানিকারক তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কিংবা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে যেকোনো উপায়ে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে এই তালিকার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ক্রেতা দেশ—ভারত ও চীন। ফলে ওয়াশিংটনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মার্কিন সেনেটে বিপুল ভোটে পাস হওয়ার পর রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপসংক্রান্ত বিলটি এবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পর্যালোচনার মুখে রয়েছে।
- ১০০% পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক: রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের সাথে যুক্ত দেশগুলোর আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ একশো শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই বিলে।
- প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করতে এবং মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতেই এই কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ।
- ভারত ও চীনের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব: গত ১২ মাসের শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারত ও চীন এই মার্কিন আইনের সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ: মার্কিন আইনপ্রণেতা ও বিশ্লেষকদের একাংশের আশঙ্কা, এই ধরনের একতরফা বাণিজ্য নীতি বৈশ্বিক বাজারে নতুন সংকট এবং কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
শুল্ক আইনের দীর্ঘমেয়াদী সুফল ও প্রভাব
এই ধরনের কঠোর ও নজিরবিহীন আইন প্রণয়ন প্রচেষ্টা বিশ্ব বাণিজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে দেশগুলোকে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজে নিতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমাতে আরও বেশি বাধ্য করবে।