ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-শি বৈঠকের সম্ভাবনা, ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে কূটনৈতিক নজর

ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-শি বৈঠকের সম্ভাবনা, ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে কূটনৈতিক নজর

ব্রিকস সম্মেলনে মোদি-শি বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক নজর

নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর হতে চলা ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে ভারত ও চিনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক নজর তৈরি হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে। শি জিনপিংয়ের এই ভারত সফর ২০১৯ সালের পর প্রথম বলে জানা যাচ্ছে।

ব্রিকসের মূল বৈঠকের পাশাপাশি সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠক হলে ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি আরও এগোতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির মতো বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

ভারত-চিন সম্পর্কে ধীরে ধীরে বরফ গলছে

২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে টানাপোড়েন চলেছে। তবে গত কয়েক বছরে দুই দেশ ধীরে ধীরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা হয়েছে।

সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগও বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারতীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎও হয়। এই ঘটনাগুলিকে দুই দেশের সম্পর্কের ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিকসের মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ব্রিকস সম্মেলনের মূল আলোচনার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারত এবার সম্মেলনের আয়োজক দেশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক হলে ভারত-চিন সম্পর্কের দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

২০২৪ সালের কাজান ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি-র বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এরপরও দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্ত থেকে বাণিজ্য—আলোচনায় একাধিক বিষয়

সম্ভাব্য মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে সামলানোর বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলি আলোচনায় আসতে পারে।

ভারত ও চিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ক্ষেত্রে চিনা বিনিয়োগ ও ব্যবসার বিষয়ে ভারতের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা গেলেও কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এখনও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক কতটা এগোয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এখনও চ্যালেঞ্জ

কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়লেও ভারত-চিন সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলার পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। সীমান্ত সমস্যা, পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি এবং সংবেদনশীল ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে মোদি-শি বৈঠক হলেও এক বৈঠকেই সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে, এমন প্রত্যাশা কূটনৈতিক মহলে নেই।

তবে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক নিয়মিত যোগাযোগের পথ আরও মসৃণ করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্রিকস সম্মেলনে নজর মোদি-শি সাক্ষাতের দিকে

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে তাই মোদি ও শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। বৈঠক হলে দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি কতটা এগোয় এবং সীমান্ত ও বাণিজ্য নিয়ে কী বার্তা দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

ব্রিকসের বহুপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় তা নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।