আবু সালেমের আগাম মুক্তির আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট, বহাল থাকল যাবজ্জীবন সাজা

আবু সালেমের আগাম মুক্তির আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট, বহাল থাকল যাবজ্জীবন সাজা

আবু সালেমের আগাম মুক্তির আবেদন খারিজ

১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আবু সালেমের আগাম মুক্তির আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এর ফলে বম্বে হাই কোর্টের ২০২৬ সালের এপ্রিলের রায় বহাল থাকল।

আবু সালেমের দাবি ছিল, ভারত ও পর্তুগালের মধ্যে তাঁর প্রত্যর্পণ চুক্তির সময় দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী তাঁর কারাবাস ২৫ বছরের বেশি হতে পারে না। সেই হিসাব অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়ের কাছাকাছি বা তার বেশি সময় জেলে কাটিয়েছেন বলে দাবি করে আগাম মুক্তি চেয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। :contentReference[oaicite:0]{index=0}

কী ছিল আবু সালেমের দাবি

আবু সালেমকে ২০০৫ সালের নভেম্বরে পর্তুগাল থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। প্রত্যর্পণের আগে ভারত সরকার পর্তুগালকে আশ্বাস দিয়েছিল যে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না এবং তাঁর কারাদণ্ড ২৫ বছরের বেশি হবে না। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তাঁকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।

সালেমের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর অর্জিত রিমিশন বা সাজা কমার সুবিধা এবং বিচার চলাকালীন জেলে কাটানো সময় হিসাব করলে ২৫ বছরের সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে তাঁকে আগাম মুক্তি দেওয়া উচিত। এই যুক্তির ভিত্তিতেই তিনি প্রথমে বিশেষ আদালত, পরে বম্বে হাই কোর্ট এবং শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

সুপ্রিম কোর্টে কী হল

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ আবু সালেমের আবেদন খারিজ করেছে। আদালত বম্বে হাই কোর্টের ১৫ এপ্রিল ২০২৬-এর সিদ্ধান্তে কোনও ত্রুটি দেখতে পায়নি। এর ফলে আগাম মুক্তির দাবি আপাতত খারিজ হয়ে গেল এবং তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকল।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও বিশেষ TADA আদালত তাঁর আগাম মুক্তির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর বম্বে হাই কোর্টে আবেদন করেন সালেম। হাই কোর্টও তাঁর দাবি খারিজ করার পর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে যায়।

২৫ বছরের হিসাব নিয়ে আইনি বিতর্ক

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ২৫ বছরের কারাবাসের হিসাব কীভাবে করা হবে। আবু সালেমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় জেলে কাটানো সময় এবং জেলে ভালো আচরণের জন্য পাওয়া রিমিশনও সেই সময়ের মধ্যে গণনা করতে হবে। অন্যদিকে সরকারপক্ষের অবস্থান ছিল, প্রত্যর্পণ চুক্তির ২৫ বছরের সীমা নিয়ে আলাদা আইনি হিসাব প্রযোজ্য এবং রিমিশনকে ব্যবহার করে সেই সময় আরও কমিয়ে দেওয়া যায় না।

২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, পর্তুগালকে দেওয়া ভারতের সার্বভৌম আশ্বাসকে সম্মান করতে কেন্দ্রকে ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর সালেমের মুক্তির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে রিমিশনের বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। তবে সেই পর্যায়েও আদালত সরাসরি তাঁর সাজা কমিয়ে দেওয়ার বিশেষ সুবিধা দেয়নি।

১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় যাবজ্জীবন

১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ মামলায় আবু সালেমকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে দোষী সাব্যস্ত করে TADA আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এছাড়াও ১৯৯৫ সালে মুম্বইয়ের নির্মাণ ব্যবসায়ী প্রদীপ জৈন হত্যাকাণ্ডে ২০১৫ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলায় দীর্ঘমেয়াদি সাজা রয়েছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}

এখন কী হবে

সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের ফলে আবু সালেমের আগাম মুক্তির বর্তমান আবেদন আর কার্যকর থাকল না। প্রত্যর্পণ চুক্তিতে দেওয়া ২৫ বছরের আশ্বাস এবং সেই সময়সীমার হিসাব নিয়ে যে আইনি বিতর্ক চলছিল, এই রায়ের মাধ্যমে আপাতত তাঁর আগাম মুক্তির দাবি খারিজ হয়েছে।

আবু সালেম ২০০৫ সালে ভারতে প্রত্যর্পণের পর থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁর পক্ষ থেকে ২৫ বছরের হিসাবের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সময় ও রিমিশন অন্তর্ভুক্ত করার যে দাবি করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা মেনে নেয়নি। ফলে ১৯৯৩ মুম্বই বিস্ফোরণ মামলায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আপাতত বহাল থাকল।