উত্তরাখণ্ডে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, চার জেলাতেই ৮৫ শতাংশের বেশি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন

উত্তরাখণ্ডে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, চার জেলাতেই ৮৫ শতাংশের বেশি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন

উত্তরাখণ্ডের ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন

উত্তরাখণ্ডে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য জমা পড়া ফর্ম-৭ আবেদনের ৮৫ শতাংশেরও বেশি এসেছে রাজ্যের মাত্র চারটি জেলা থেকে। উধম সিং নগর, হরিদ্বার, দেরাদুন এবং নৈনিতাল—এই চার জেলাতেই নাম বাদ দেওয়ার আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি সামনে আসার পর ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডে মোট ১,৩০,৩৮২টি ফর্ম-৭ আবেদন জমা পড়েছে। এই ফর্মের মাধ্যমে কোনও ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো যায়। এর মধ্যে উধম সিং নগর থেকে ৪৩,৮৭৮টি, হরিদ্বার থেকে ২৯,৩৬৯টি, দেরাদুন থেকে ১৯,৪০২টি এবং নৈনিতাল থেকে ১৮,৩০১টি আবেদন এসেছে। অর্থাৎ রাজ্যের ১৩টি জেলার মধ্যে এই চার জেলা মিলিয়েই মোট আবেদনের ৮৫ শতাংশের বেশি। :contentReference[oaicite:0]{index=0}

উধম সিং নগরেই সবচেয়ে বেশি আবেদন

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, চার জেলার মধ্যে উধম সিং নগরেই সবচেয়ে বেশি ফর্ম-৭ আবেদন জমা পড়েছে। এই জেলায় ৪৩,৮৭৮টি আবেদনের মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৮,৯৭৫টি নিষ্পত্তি হয়েছে। হরিদ্বারে ২৯,৩৬৯টির মধ্যে ১১,৮১৫টি, নৈনিতালে ১৮,৩০১টির মধ্যে ৬,৮০৩টি এবং দেরাদুনে ১৯,৪০২টির মধ্যে ৮,১৪০টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। :contentReference[oaicite:1]{index=1}

শুধু আবেদন করলেই নাম বাদ যায় না

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ফর্ম-৭ জমা পড়লেই কোনও ভোটারের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায় না। সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ERO-কে বিষয়টি যাচাই করতে হয়। প্রয়োজন হলে ভোটারকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয় এবং বুথ লেভেল অফিসার বা BLO-র মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে যাচাইও করা হয়। এরপরই নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

ফলে বর্তমানে জমা পড়া ১,৩০,৩৮২টি আবেদনকে সরাসরি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম হিসেবে দেখা যাবে না। এগুলি মূলত নাম বাদ দেওয়ার জন্য জমা পড়া আবেদন। কোন আবেদন বৈধ এবং কোন ক্ষেত্রে ভোটারের নাম তালিকায় রাখা হবে, তা যাচাই ও শুনানির পর নির্ধারিত হবে।

SIR প্রক্রিয়ায় আরও বহু আবেদন pending

উত্তরাখণ্ডের SIR প্রক্রিয়ায় শুধু নাম বাদ দেওয়ার আবেদনই নয়, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ভোটার তথ্য সংশোধনের আবেদনও জমা পড়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৬,২৫০টি ফর্ম-৭ আবেদন এখনও প্রক্রিয়াধীন ছিল। পাশাপাশি নতুন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ১,১৪,৫৭৯টি ফর্ম-৬ আবেদন এবং ভোটার সংক্রান্ত তথ্য সংশোধনের জন্য ৩৮,২৪১টি ফর্ম-৮ আবেদনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর ফলে নির্বাচন দফতরের সামনে এখন বড় সংখ্যক আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে যে চারটি জেলায় নাম বাদ দেওয়ার আবেদন সবচেয়ে বেশি, সেখানেই pending আবেদনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। প্রশাসনের জন্য দ্রুত যাচাই শেষ করার পাশাপাশি কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে ভুলভাবে বাদ না যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা কমেছিল

এর আগে ১৪ জুলাই প্রকাশিত উত্তরাখণ্ডের খসড়া ভোটার তালিকায় মোট ৭১,৩৩,৭৮৫ জন ভোটারের নাম ছিল। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত তালিকার তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৮.২৫ লক্ষ কম। SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটার রেকর্ডে অসঙ্গতিও চিহ্নিত হয়েছিল। বিশেষ করে দেরাদুন, হরিদ্বার এবং উধম সিং নগরে এমন রেকর্ডের সংখ্যা বেশি ছিল। :contentReference[oaicite:2]{index=2}

বাড়ি বাড়ি যাচাইয়ের সময় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা মৃত ভোটারদেরও চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে প্রকৃত ও যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে কোনওভাবেই বাদ না যায়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়ে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি বা আপত্তি জানিয়ে নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

দাবি-আপত্তির সময়সীমা বাড়িয়েছে কমিশন

বিপুল সংখ্যক আবেদন এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় নির্বাচন কমিশন উত্তরাখণ্ডে দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির সময়সীমা বাড়িয়েছে। আগে এই প্রক্রিয়া ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা বাড়িয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখও পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত তালিকা ৩ অক্টোবর প্রকাশ করার কথা রয়েছে। :contentReference[oaicite:3]{index=3}

রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে

চারটি জেলায় ফর্ম-৭ আবেদনের এত বেশি ঘনত্ব নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, কেন রাজ্যের নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলাতেই এত বেশি নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ল। অন্যদিকে শাসকপক্ষের তরফে জনসংখ্যার ঘনত্ব, মানুষের যাতায়াত এবং সীমান্তবর্তী এলাকার জনসংখ্যার গতিশীলতার মতো কারণের কথা বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, শুধুমাত্র আবেদনের সংখ্যা দেখে কোনও অনিয়মের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়; প্রতিটি আবেদন নিয়ম মেনে যাচাই করতে হবে। :contentReference[oaicite:4]{index=4}

এখন নজর রয়েছে বাকি ফর্ম-৭ আবেদনগুলির যাচাই এবং নিষ্পত্তির দিকে। কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম যাতে ভুলভাবে বাদ না যায় এবং অযোগ্য বা ভুলভাবে থাকা নাম নিয়ম মেনে সংশোধন করা যায়, সেটিই SIR প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি গ্রহণের সুযোগ এবং ৩ অক্টোবর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই উত্তরাখণ্ডের ভোটার তালিকার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।