ব্রিকস সম্মেলনের আগে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, পুতিন-শি-সহ বিশ্বনেতাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
ব্রিকস সম্মেলনের আগে নিরাপত্তার চাদরে দিল্লি
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজধানী দিল্লিকে। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের সফরকে সামনে রেখে বিমানবন্দর, হোটেল, সম্মেলনস্থল এবং ভিভিআইপি যাতায়াতের রুটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার জন্য প্রায় ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ১০০-র বেশি এনএসজি কমান্ডো, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
পুতিন ও শি জিনপিংয়ের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর জন্য নির্ধারিত হোটেল এবং বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের রুটে অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বেও বিশেষ নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুই দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের প্রতিনিধিরাও ইতিমধ্যে দিল্লিতে এসে প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
শীর্ষ রাষ্ট্রনেতাদের থাকার জন্য দিল্লির একাধিক হোটেলকে উচ্চ নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হোটেলের কর্মীদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। অতিথিদের যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট রুটে নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রনেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গেও ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সমন্বয় করছে।
এয়ারপোর্ট থেকে ভারত মণ্ডপম পর্যন্ত নজরদারি
বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁদের নির্দিষ্ট হোটেল এবং সেখান থেকে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছনোর পুরো রুট নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সংযোগস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ভিভিআইপি কনভয়ের চলাচলের সময় যান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনাও করা হয়েছে। দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে।
বিমানবন্দর, হোটেল ও সম্মেলনস্থলের পাশাপাশি আকাশপথের নিরাপত্তার দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে কোনও অননুমোদিত নজরদারি বা হুমকি ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে সিসিটিভি এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হবে।
বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়
ব্রিকস সম্মেলনের নিরাপত্তায় বহুস্তরীয় ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। সম্মেলনস্থল, অতিথিদের হোটেল এবং যাতায়াতের পথে একাধিক নিরাপত্তা বলয় থাকবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও পরীক্ষা করছে। সন্দেহজনক গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদানের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশের সঙ্গে গাজিয়াবাদ ও নয়ডা পুলিশের সমন্বয় বৈঠকও হয়েছে। আন্তঃরাজ্য সীমান্তে নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা যাচাই, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ফলে সম্মেলনের সময় শুধু রাজধানী নয়, সংলগ্ন এলাকাতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।
যান চলাচলেও প্রভাব পড়তে পারে
বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ও ভিভিআইপি প্রতিনিধিদলের যাতায়াতের কারণে দিল্লির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সাময়িক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। বিমানবন্দর, হোটেল ও ভারত মণ্ডপমের সংযোগকারী রুটগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ বা বিকল্প পথে চালানোর ব্যবস্থা করা হবে। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিশ্বনেতাদের নিরাপত্তায় নজিরবিহীন প্রস্তুতি
ভারতের আয়োজনে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি থাকায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পুতিন, শি জিনপিং-সহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বনেতাদের সফরকে সামনে রেখে দিল্লিতে যে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য হল সম্মেলনস্থল থেকে শুরু করে অতিথিদের যাতায়াত এবং থাকার জায়গা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সম্মেলন যত এগিয়ে আসছে, দিল্লিতে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও তত বাড়ানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে কোনও ধরনের নিরাপত্তাজনিত সমস্যা যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে।