মুম্বই-গোয়া হাইওয়ে নিয়ে ক্ষোভ, উদ্বোধনের অপেক্ষায় আর থাকতে চান না নীতিন গড়করি

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ে নিয়ে ক্ষোভ, উদ্বোধনের অপেক্ষায় আর থাকতে চান না নীতিন গড়করি

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ের কাজ নিয়ে ক্ষুব্ধ নীতিন গড়করি

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ের কাজ দীর্ঘদিন ধরে শেষ না হওয়ায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তিনি এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর উপস্থিত থাকতে চান না বলেও জানিয়েছেন। বুধবার গোয়ার পোরভোরিমে একটি ছয় লেনের এলিভেটেড করিডরের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুম্বই-গোয়া হাইওয়ের কাজের গতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

গড়করি জানিয়েছেন, হাইওয়ের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলার পরও প্রকল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাকি থাকায় তিনি সন্তুষ্ট নন। এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ আটকে থাকা নিয়ে নিজের হতাশার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

উদ্বোধনে যাবেন না গড়করি

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ের কাজ সম্পূর্ণ হলে তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা। কিন্তু গড়করি জানিয়েছেন, এত দেরির কারণে তিনি সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন না। তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া উচিত ছিল এবং বারবার সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।

গড়করি জানিয়েছেন, অক্টোবরে তিনি নিজেই মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে গোয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সেই যাত্রার মাধ্যমে তিনি নিজে হাইওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, রাস্তার গুণমান এবং যাত্রীদের জন্য যাতায়াত কতটা সুবিধাজনক হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে চান। অর্থাৎ শুধু কাগজে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তার বদলে বাস্তবে সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিষেবা পাচ্ছেন, সেটিও পরীক্ষা করতে চান তিনি।

কাজের গতি নিয়ে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

হাইওয়ের কাজের দীর্ঘসূত্রিতার জন্য ঠিকাদারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গড়করি। তাঁর বক্তব্য, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

গড়করি জানিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রক এমন ঠিকাদারদের ব্ল্যাকলিস্ট করা এবং দায়িত্বে গাফিলতি করা আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিতে চায়। আগামী এক বছরের মধ্যে বিপুল সংখ্যক ব্যর্থ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে জাতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজে সময়সীমা ও গুণমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা দিতে চাইছে কেন্দ্র।

২০১৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ে প্রকল্পটি বহু বছর ধরে বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও একাধিক বাধার কারণে তা বারবার পিছিয়েছে। জমি অধিগ্রহণ, অনুমোদন, ঠিকাদারদের কাজের গতি এবং প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের বাস্তবায়ন নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

বর্তমানে প্রায় ৯৩ থেকে ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কয়েকটি অংশে এখনও নির্মাণ ও সংশোধনের কাজ বাকি রয়েছে। কিছু এলাকায় রাস্তার পরিস্থিতি, জল জমা, যানজট এবং মেরামতের প্রয়োজন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বর্ষার পর কয়েকটি নতুন নির্মিত অংশে রাস্তার পৃষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

মুম্বই থেকে গোয়া যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়ে

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ে মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন অঞ্চল হয়ে গোয়ার সঙ্গে মুম্বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ তৈরি করে। পর্যটন, বাণিজ্য এবং স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সড়কের গুরুত্ব অনেক। হাইওয়ের কাজ সম্পূর্ণ হলে মুম্বই ও গোয়ার মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত এবং নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি কোঙ্কন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই পথ দিয়ে গণেশ উৎসব, পর্যটনের মরশুম এবং অন্যান্য সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। ফলে রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণমান বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর প্রকল্পটি প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেও বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার উপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।

অক্টোবরে নিজেই রাস্তা পরিদর্শন করবেন গড়করি

মুম্বই-গোয়া হাইওয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতেই অক্টোবরে মুম্বই থেকে গোয়া পর্যন্ত সড়কপথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গড়করি। তাঁর এই পরিদর্শনে রাস্তার গুণমান, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হতে পারে।

দীর্ঘ বিলম্বের পর হাইওয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, শুধু কাজ শেষ করাই যথেষ্ট নয়—রাস্তার মান এবং যাত্রীদের সুবিধাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এখন নজর রয়েছে বাকি কাজ কবে শেষ হয় এবং গড়করির অক্টোবরের পরিদর্শনের পর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকে।