প্রেসিডেন্সি জেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও আফতাব আনসারির সেল থেকে সচল মোবাইল উদ্ধার
প্রেসিডেন্সি জেলের হাই-সিকিউরিটি সেলে চাঞ্চল্য, উদ্ধার সচল মোবাইল
রাজ্যের অন্যতম সুরক্ষিত সংশোধনাগার হিসেবে পরিচিত প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতর থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সমস্ত কড়া নিরাপত্তা ও বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কুখ্যাত বন্দি আফতাব আনসারির সেল থেকে একটি সচল মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছেন জেল কর্তারা। জেলের ভেতর বন্দিদের কাছে কীভাবে মোবাইল পৌঁছাল, তা নিয়ে কারাকর্তাদের ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়া নজরদারি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযানে জেলের অন্দরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্সি জেলের সেলগুলিতে আচমকা একটি বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই তল্লাশির সময়ই গ্যাংস্টার আফতাব আনসারির ডেরা থেকে ওই স্মার্টফোনটি উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, আমেরিকান সেন্টার হামলা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আফতাব আনসারি দীর্ঘদিন ধরে এই সেলেই বন্দি রয়েছে এবং তার ওপর বিশেষ নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকার কথা। তা সত্ত্বেও তার কাছে মোবাইল সচল থাকার ঘটনায় জেলের ভেতরকার নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় ফাঁকফোকর রয়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রেসিডেন্সি জেলের হাই-সিকিউরিটি ওয়ার্ডে কড়া পাহারা সত্ত্বেও অপরাধী আফতাব আনসারির সেল থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
- প্রেসিডেন্সি জেলে আকস্মিক তল্লাশিতে আফতাব আনসারির সেল থেকে মোবাইল উদ্ধার।
- সুরক্ষিত জেলের ভেতরে কীভাবে নিষিদ্ধ ফোন প্রবেশ করল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
- ঘটনার জেরে কারা দপ্তরের অন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কারা দপ্তরের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই গুরুতর ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই রাজ্য কারা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নড়েচড়ে বসেছেন। কীভাবে জেলের প্রতিটি স্তরের নিরাপত্তা এড়িয়ে এই নিষিদ্ধ সামগ্রী ভেতরে পৌঁছাল এবং এর নেপথ্যে কোনো জেলের কর্মী বা বাইরের কোনো চক্রের যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে যাতে জানা যায় কার কার সঙ্গে ওই ফোন থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছিল।
জেল সুপার ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রেসিডেন্সি সহ রাজ্যের অন্যান্য সংশোধনাগারগুলিতেও নজরদারি আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধজগতের সঙ্গে জেলের অন্দরে যোগাযোগের এই যোগসূত্র ফাঁস হওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।