লিভ-ইন সম্পর্কে গর্ভপাত (Abortion)-এর অধিকার: অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে আইনি নিয়ম কী?

লিভ-ইন সম্পর্কে গর্ভপাত (Abortion)-এর অধিকার: অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে আইনি নিয়ম কী?

লিভ-ইন সম্পর্কে গর্ভপাত ও অবিবাহিত নারীদের আইনি অবস্থান

ভারতে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা অবিবাহিত নারীদের গর্ভপাত বা গর্ভপাত ঘটানোর (Abortion) পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। অতীতে মেডিকেল টার্মিনেশন অব প্রেগন্যান্সি (MTP) আইনে গর্ভপাতের সুযোগ মূলত বিবাহিত নারীদের গর্ভনিরোধক ব্যর্থতার (Contraceptive Failure) ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ২০২১ সালের সংশোধন এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের পর বৈবাহিক মর্যাদা নির্বিশেষে সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক নারী—বিবাহিত বা অবিবাহিত—আইনসম্মতভাবে নিরাপদ গর্ভপাতের সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

আইনের দৃষ্টিতে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বিবাহিত এবং অবিবাহিত নারীর মধ্যে পার্থক্য করাকে অসংবিধানিক এবং প্রজনন স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

লিভ-ইন সম্পর্কে গর্ভপাতের আইনি সুরক্ষার মূল দিকসমূহ:

  • সংশোধিত MTP আইন ২০২১: আইনে "স্বামী" (Husband) শব্দটির জায়গায় "সঙ্গী" (Partner) শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে, যা অবিবাহিত ও লিভ-ইন পার্টনারদের সরাসরি আইনি স্বীকৃতি দেয়।
  • ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত: বিশেষ পরিস্থিতি ও গর্ভনিরোধক ব্যর্থতার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অবিবাহিত নারীরা ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাত করাতে পারেন।
  • সঙ্গী বা পরিবারের সম্মতির বাধ্যবাধকতা নেই: গর্ভপাতের জন্য কেবল গর্ভবতী নারীর নিজের সিদ্ধান্ত ও লিখিত সম্মতিই যথেষ্ট। পুরুষ সঙ্গী বা পরিবারের কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
  • গোপনীয়তার পূর্ণ অধিকার: চিকিৎসাধীন নারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের আইনি দায়িত্ব।
  • সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: গর্ভপাত সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (Article 21) এবং প্রজনন সংক্রান্ত স্বাধিকারের (Bodily Autonomy) অংশ।

সুপ্রিম কোর্টের ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

২০২২ সালে একজন অবিবাহিত নারীর মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়াই ভি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানায় যে, কেবল অবিবাহিত বা লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার কারণে কোনো নারীকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আদালত উল্লেখ করে, বিবাহিত নারীদের মতো অবিবাহিত নারীদেরও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ফলে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির সমান সম্ভাবনা থাকে।

ফলে বৈবাহিক স্থিতির ওপর ভিত্তি করে গর্ভপাতের অধিকার সীমিত করা নারীর শারীরিক স্বাধিকার ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

হাসপাতালে আইনি সুবিধা ও গোপনীয়তা রক্ষার উপায়

রেজিস্টার্ড মেডিকেল প্র্যাকটিশনারের (RMP) অধীনে যেকোনো সরকারি বা নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালে অবিবাহিত নারীরা নিরাপদে গর্ভপাত করাতে পারেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা কোনো চিকিৎসক অবিবাহিত হওয়ার অজুহাতে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করতে পারেন না বা অভিভাবকের সই দাবি করতে পারেন না (যদি না নারী নাবালিকা হন)।

কোনো ক্লিনিক বা ডাক্তার আইনি সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে বা গোপনীয়তা ভঙ্গ করার ভয় দেখালে ভুক্তভোগী নারী রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ, জাতীয় বা রাজ্য নারী কমিশন (NCW) অথবা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (DLSA) কাছে অভিযোগ জানিয়ে তাৎক্ষণিক আইনি সুরক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা পেতে পারেন।