একতরফা ডিভোর্স কী? সঙ্গী রাজি না থাকলেও যেভাবে বিচ্ছেদ পাওয়া সম্ভব
একতরফা ডিভোর্স বা Contested Divorce কী?
বিবাহিত জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যেখানে একজন সঙ্গী বিচ্ছেদ চান, কিন্তু অপর পক্ষ তাতে সম্মতি দিতে অস্বীকার করেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ভারতীয় বিবাহ আইন অনুযায়ী যে ডিভোর্সের মামলা করা হয়, তাকে একতরফা ডিভোর্স বা 'Contested Divorce' বলা হয়। অর্থাৎ, এটি এমন এক আইনি প্রক্রিয়া যেখানে উভয়পক্ষের সম্মতি থাকে না এবং আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955), বিশেষ বিবাহ আইন (Special Marriage Act, 1954) কিংবা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী, সঙ্গী রাজি না থাকলেও নির্দিষ্ট কিছু বৈধ ও শক্তিশালী আইনি কারণ বা গ্রাউন্ডস (Grounds) দেখিয়ে আদালতে একতরফা বিচ্ছেদের আবেদন করা যায়।
যেসব আইনি কারণে একতরফা ডিভোর্স পাওয়া সম্ভব:
- মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন (Cruelty): সঙ্গীর দ্বারা মারাত্মক শারীরিক অত্যাচার বা মানসিক নির্যাতন প্রমাণিত হলে তা ডিভোর্সের বড় কারণ হতে পারে।
- পরকীয়া বা ব্যভিচার (Adultery): বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে সঙ্গীর অন্য কারও সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক থাকলে তা প্রমাণ সাপেক্ষে বিচ্ছেদের আবেদন করা যায়।
- পরিত্যাগ করা (Desertion): উপযুক্ত কারণ ছাড়া সঙ্গী যদি টানা ২ বছর বা তার বেশি সময় ধরে অপর পক্ষকে সম্পূর্ণ ত্যাগ করে আলাদা থাকেন।
- ধর্ম পরিবর্তন (Conversion): যদি স্বামী বা স্ত্রীর একজন অন্য ধর্ম গ্রহণ করেন।
- মানসিক ব্যাধি (Mental Disorder): সঙ্গী যদি এমন গুরুতর মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন যার ফলে একসঙ্গে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
- সংক্রামক ব্যাধি (Communicable Disease): নিরাময় অযোগ্য কোনো গুরুতর সংক্রামক ব্যাধিতে সঙ্গী আক্রান্ত হলে।
- খোঁজ না পাওয়া (Presumption of Death): টানা ৭ বছর ধরে যদি সঙ্গীর বেঁচে থাকার কোনো সন্ধান না পাওয়া যায়।
একতরফা ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
একতরফা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে প্রথমে আবেদনকারীকে উপযুক্ত প্রমাণসহ পারিবারিক আদালতে (Family Court) পিটিশন দাখিল করতে হয়। আদালত অপর পক্ষকে সমন (Summon) পাঠান এবং তাদের বক্তব্য বা জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ যাচাই-বাছাই এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে বিচ্ছেদের কারণটি সত্য ও যুক্তিযুক্ত, তবেই চূড়ান্ত ডিভোর্সের নির্দেশ বা ডিক্রি দেওয়া হয়।
পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্সের চেয়ে একতরফা ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় সময় অনেকটাই বেশি লাগে। কারণ এতে অভিযোগ প্রমাণ, নথিপত্র উপস্থাপন এবং সাক্ষীদের বয়ান গ্রহণের মতো একাধিক ধাপ থাকে। তাই এই প্রক্রিয়ায় সফল হতে হলে উপযুক্ত প্রমাণপত্র এবং দক্ষ আইনি পরামর্শ অপরিহার্য।