পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্স: সবচেয়ে কম সময়ে আইনি বিচ্ছেদের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্স: কম সময়ে আইনি বিচ্ছেদের কার্যকর পথ
দাম্পত্য জীবনে একাধিক চেষ্টার পরও যখন বোঝাপড়া সম্ভব হয় না, তখন উভয়ের সম্মতিতে সম্মানের সাথে আলাদা হওয়াই একটি সুন্দর সমাধান হতে পারে। ভারতে হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955)-এর ১৩বি (13B) ধারা এবং বিশেষ বিবাহ আইন (Special Marriage Act, 1954)-এর ২৮ ধারা অনুযায়ী পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ বা 'Mutual Consent Divorce'-এর বিধান রয়েছে। আইনি জটিলতা এড়িয়ে সবচেয়ে কম সময়ে এবং কম খরচে বিচ্ছেদ সম্পন্ন করার এটিই একমাত্র সঠিক মাধ্যম।
অন্যান্য বিতর্কিত বা একতরফা ডিভোর্সের মামলায় যেখানে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়, সেখানে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে আবেদন করলে তুলনামূলক অত্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়াটি শেষ করা সম্ভব। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু আইনি শর্ত ও ধাপ অনুসরণ করা আবশ্যক।
মিউচুয়াল ডিভোর্সের প্রাথমিক শর্তাবলী:
- পৃথক বসবাসের মেয়াদ: স্বামী ও স্ত্রী উভয়কে আদালতের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে তারা ন্যূনতম ১ বছর (বা বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মেয়াদ) ধরে আলাদা বসবাস করছেন।
- সম্মতি ও বোঝাপড়া: বিচ্ছেদের বিষয়ে উভয়ের পূর্ণ সম্মতি থাকতে হবে এবং কেউ কাউকে জোর করতে পারবে না।
- আর্থিক ও সম্পত্তি নিষ্পত্তি: খোরপোশ (Alimony), খোরপোষের এককালীন অর্থ (Permanent Alimony) এবং যৌথ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অধিকার নিয়ে পূর্বেই লিখিত চুক্তি করতে হবে।
- সন্তানের হেফাজত (Child Custody): সন্তান কার কাছে থাকবে, সন্তানের পড়াশোনা ও খরচের দায়িত্ব কে নেবে এবং অপর অভিভাবক কীভাবে দেখা করার সুযোগ (Visiting Rights) পাবেন, তা স্পষ্ট চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে।
ডিভোর্সের আইনি ধাপ ও কুলিং-অফ পিরিয়ডের নিয়ম
পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্সের প্রক্রিয়া প্রধানত দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে স্বামী ও স্ত্রী যৌথভাবে পারিবারিক আদালতে (Family Court) পিটিশন ফাইল করেন, যাকে 'First Motion' বলা হয়। আদালত উভয়পক্ষের জবানবন্দি গ্রহণ করার পর নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। প্রথম মোশন মঞ্জুর হওয়ার পর সাধারণ নিয়মে আইন অনুযায়ী ৬ মাসের একটি বিরতি বা 'Cooling-off Period' দেওয়া হয়, যাতে দম্পতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পুনরায় ভেবে দেখার সুযোগ পান।
তবে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায় অনুযায়ী, যদি দম্পতির মাঝে পুনরায় একত্রে বসবাসের কোনো সম্ভাবনাই না থাকে এবং সমস্ত আর্থিক ও সন্তান সম্পর্কিত বিষয় অমীমাংসিত না থাকে, তবে আদালত ধারা ১৩বি(২)-এর অধীনে এই ৬ মাসের ওয়েটিং পিরিয়ড মওকুফ (Waiver) করতে পারেন। এর ফলে আবেদনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই 'Second Motion' সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ডিভোর্সের ডিগ্রি লাভ করা সম্ভব।
উপসংহারে বলা যায়, পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ কেবল সময় ও অর্থ বাঁচায় না, বরং মানসিক চাপ থেকেও উভয় পক্ষকে মুক্ত রাখে। যৌথ সমঝোতাপত্র (Settlement Agreement) সঠিকভাবে ড্রাফট বা তৈরি করে আদালতে পেশ করাই দ্রুত বিচ্ছেদ পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।