মিথ্যা মামলা ও ব্ল্যাকমেইল: খোরপোশের নামে হয়রানি থেকে পুরুষদের বাঁচার আইনি উপায়
খোরপোশের নামে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির বাস্তব চিত্র
বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়ায় নারীদের সুরক্ষার জন্য বেশ কিছু বিশেষ আইন রাখা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব আইনের অপব্যবহার করে স্বামীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ব্ল্যাকমেইল এবং অত্যধিক খোরপোশ (Alimony) দাবি করে হয়রানি করা হচ্ছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ (বর্তমানে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা) বা খোরপোশ আইনের ১২৫ ধারার অপব্যবহার রোধে দেশের আদালতগুলো একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
খোরপোশের নামে কোনো পুরুষ যেন অন্যায়ভাবে ব্ল্যাকমেইল বা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য আইনেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ও আইনি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে।
মিথ্যা মামলা ও খোরপোশের হয়রানি থেকে বাঁচার আইনি নিয়মাবলী:
- সম্পত্তি ও আয়ের সত্য হলফনামা (Affidavit of Assets): সুপ্রিম কোর্টের 'রজনীশ বনাম নেহা' রায়ের নির্দেশ অনুযায়ী, স্বামী ও স্ত্রী উভয়কেই নিজেদের বাস্তব আয় ও সম্পদের সঠিক বিবরণী জমা দিতে হয়। স্ত্রীর প্রকৃত আয়, চাকরি বা শিক্ষাগত যোগ্যতা আড়াল করলে তা প্রমাণসহ আদালতে উপস্থাপন করা উচিত।
- স্ত্রীর উপার্জনের প্রমাণ পেশ: স্ত্রী যদি চাকরি করেন বা নিজস্ব আয়ের উৎস থাকে কিন্তু মামলায় তা গোপন করে বেকার দাবি করেন, তবে তাঁর ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে-স্লিপ, সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল বা সহকর্মীদের সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে জমা দিন।
- মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে কোয়াশিং (Quashing): স্ত্রীর দায়ের করা মামলা যদি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা হয়, তবে হাইকোর্টে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ বা সিআরপিসির ৪৮২ ধারার (বর্তমানে বিএনএসএস-এর ধারা ৫২৮) অধীনে মামলাটি খারিজ বা 'Quashing'-এর জন্য আবেদন করা যায়।
- ডিজিটাল ও লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ: ব্ল্যাকমেইলিং বা অতিরিক্ত অর্থ দাবির প্রমাণ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, কল রেকর্ডিং, মেসেজ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আর্থিক লেনদেনের সমস্ত রেকর্ড সাবধানে সংরক্ষণ করুন।
- মিথ্যা সাক্ষ্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা: স্ত্রী যদি আদালতে মিথ্যা হলফনামা বা ভুয়ো তথ্য প্রদান করেন, তবে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা (পূর্বতন সিআরপিসি ৩৪০) অনুযায়ী মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার (Perjury) অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা যায়।
আদালতে পুরুষের অধিকার এবং প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ
যদি দেখা যায় যে স্ত্রী কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়াই স্বামীকে ত্যাগ করে আলাদা থাকেন (Desertion), তবে ভারতীয় আইন অনুযায়ী তিনি খোরপোশ পাওয়ার অধিকার হারাতে পারেন। এছাড়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার (Adultery) নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকলে স্বামী খোরপোশের দাবি খারিজ করার আবেদন করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হয়রানির মুখোমুখি হলে প্যানিক না হয়ে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। আবেগের বশে কোনো সমঝোতা না করে আদালতের কাছে সমস্ত সত্য ও নিরেট প্রমাণ উপস্থাপন করাই অবাস্তব দাবি এবং মিথ্যা আইনি ঝামেলা থেকে আত্মরক্ষার একমাত্র কার্যকরী উপায়।