যৌথ সম্পত্তি ও ডিভোর্স: বিচ্ছেদের পর স্ত্রীর কি স্বামীর বাড়ির ওপর অধিকার থাকে?
ডিভোর্সের পর কি স্ত্রীর স্বামীর বাড়ির ওপর অধিকার থাকে?
বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আইনি জটিলতা তৈরি হয় সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে। বিশেষ করে বিচ্ছেদের পর স্ত্রী স্বামীর নামে থাকা বাড়ি, যৌথ সম্পত্তি বা শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তিতে ভাগ বা থাকার অধিকার পাবেন কি না—তা নিয়ে নানা বিভ্রান্তি রয়েছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, বিবাহিত জীবনে স্ত্রী যে বাড়িতে বসবাস করেন, তাকে 'Shared Household' বা বৈবাহিক ভিটে বলা হয়, তবে সম্পত্তির মালিকানা ও থাকার অধিকারের মধ্যে আইনি সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
বর্তমানে ভারতীয় আইনে স্ত্রীর বসবাসের অধিকার সুরক্ষিত থাকলেও, স্বামীর নিজস্ব অর্জিত বা পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানায় সরাসরি ভাগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কার্যকর রয়েছে।
সম্পত্তির ধরণ অনুযায়ী স্ত্রীর আইনি অধিকারের নিয়মাবলী:
- স্বামীর নিজস্ব অর্জিত সম্পত্তি (Self-acquired Property): বাড়ি বা জমি যদি কেবল স্বামীর নিজের উপার্জিত টাকায় কেনা হয় এবং এককভাবে তাঁর নামে নিবন্ধিত থাকে, তবে ডিভোর্সের পর স্ত্রী তাতে সরাসরি কোনো মালিকানার দাবি করতে পারেন না। তবে যতদিন ডিভোর্সের ডিগ্রি চূড়ান্ত না হচ্ছে, ততদিন স্ত্রী সেখানে বসবাসের অধিকার দাবি করতে পারেন।
- যৌথ নামে কেনা সম্পত্তি (Jointly Owned Property): বাড়ি বা সম্পত্তি যদি স্বামী ও স্ত্রী দুজনের যৌথ নামে কেনা থাকে, তবে স্ত্রী তাঁর নিজ অবদানের বা রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী সমান অংশের আইনি মালিক। বিচ্ছেদের সময় এই সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ ভাগ বা নিজের অংশ দাবি করা সম্ভব।
- শ্বশুরবাড়ির বা পৈতৃক সম্পত্তি (Ancestral Property): স্বামীর বাবা-মা বা পূর্বপুরুষের নামে থাকা বাড়িতে স্ত্রী কোনো স্বত্ব বা মালিকানার দাবি করতে পারেন না। স্বামীর জীবদ্দশায় শ্বশুরবাড়ির পৈতৃক সম্পত্তিতে স্ত্রীর সরাসরি কোনো আইনি অধিকার থাকে না।
- বসবাসের অধিকার (Right to Residance): সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায় এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন (Protection of Women from Domestic Violence Act, 2005)-এর অধীনে স্ত্রী তাঁর বৈবাহিক ভিটায় (Shared Household) বসবাস করার অধিকার পান। স্বামী যদি আলাদা থাকেন, তবে স্ত্রীকে সমমানের অন্য একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে বা বাড়ি ভাড়ার খরচ বহন করতে আদালত নির্দেশ দিতে পারেন।
ডিভোর্সের মামলায় যৌথ সম্পত্তির সুরক্ষায় আইনি পদক্ষেপ
বিবাহবিচ্ছেদ বা সমঝোতার (Settlement) সময় সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে আদালতের নজরদারিতে আনা প্রয়োজন। বিচ্ছেদের সমঝোতাপত্র বা এককালীন স্থায়ী খোরপোশ (Permanent Alimony) নির্ধারণের সময় স্ত্রী বাড়ি বা সম্পত্তির মূল্য বিবেচনা করে এককালীন অর্থ দাবি করতে পারেন।
যদি বাড়ি তৈরিতে বা কেনার সময়ে স্ত্রী আর্থিক অবদান (যেমন—নিজের জমানো টাকা বা লোন পরিশোধে অংশগ্রহণ) রেখে থাকেন এবং নথিপত্র বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে পারেন, তবে সম্পত্তির একক মালিকানা স্বামীর নামে থাকলেও আদালত স্ত্রীর সেই বিনিয়োগ বা আর্থিক পাওনা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। সুতরাং, মালিকানা সরাসরি হস্তান্তর না হলেও খোরপোশ ও আবাসন অধিকারের মাধ্যমে স্ত্রী তাঁর ন্যায্য আর্থিক নিরাপত্তা পেতে সক্ষম হন।