বয়স্কদের হঠাৎ মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে অবহেলা নয়, তাৎক্ষণিকভাবে যা করা উচিত
প্রবীণ বয়সে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া কেন প্রয়োজন
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের শরীরে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে হঠাৎ করে মাথা ঘোরা (Vertigo) কিংবা প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করা অন্যতম সাধারণ একটি সমস্যা। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা এটিকে বার্ধক্যের সাধারণ দুর্বলতা বা ক্লান্তির ফল মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের ক্ষেত্রে এই ধরনের হঠাৎ মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এটি উচ্চ রক্তচাপ, নিম্ন রক্তচাপ, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত বা হৃদরোগের মতো গুরুতর কোনো সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। তাই এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হঠাৎ করে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ফলে প্রবীণদের হাড়ে মারাত্মক চোট পাওয়ার বা মস্তিষ্কে আঘাত লাগার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। বিশেষ করে বাথরুমে যাওয়ার সময় বা ঘুম থেকে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে অনেক প্রবীণের মাথা ঘুরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর পেছনে শরীরে জলের ঘাটতি, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা কানের ভেতরের ভারসাম্যের সমস্যাও জড়িয়ে থাকতে পারে। তাই পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে এই ধরনের পরিস্থিতিতে কী করণীয় সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে যাতে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রবীণদের হঠাৎ মাথা ঘুরলে বা অতিরিক্ত দুর্বল লাগলে তাদের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে বসিয়ে বা শুইয়ে দিতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- মাথা ঘুরলে প্রবীণদের সঙ্গে সঙ্গে কোনো নিরাপদ স্থানে বা বিছানায় শুইয়ে দিয়ে পা সামান্য উঁচুতে তুলে দেওয়া যাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।
- হঠাৎ করে বিছানা বা চেয়ার থেকে দ্রুত উঠতে না দিয়ে ধীরে ধীরে ওঠার অভ্যাস করানো।
- শরীরে জলের ঘাটতি বা সুগার কমে যাওয়ার কারণে এমন হলে এক গ্লাস ওআরএস বা সামান্য নুন-চিনির জল পান করানো।
- মাথা ঘোরার সমস্যা বারবার দেখা দিলে দ্রুত রক্তচাপ, সুগার পরীক্ষা করান এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
- কোনো নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে কি না তা যাচাই করার জন্য প্রেসক্রিপশন চেক করা।
জরুরি পরিস্থিতিতে অন্যান্য সতর্কতা
যদি মাথা ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে বুকে ব্যথা, কথা বলতে সমস্যা হওয়া, শরীরের এক দিক অবশ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে তা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত।
পরিশেষে, প্রবীণদের শরীরের ছোটোখাটো সংকেতগুলো সময়মতো অনুধাবন করাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে। একটু সচেতনতা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।