বয়স বাড়লে জল কম খাবেন না, প্রবীণদের পানীয় গ্রহণে কেন সতর্ক থাকা জরুরি
প্রবীণ বয়সে পর্যাপ্ত তরল ও জল পানের প্রয়োজনীয়তা
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতায় পরিবর্তন আসে, যার মধ্যে অন্যতম হলো মস্তিষ্কের তৃষ্ণা অনুভব করার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। এর ফলে তরুণদের তুলনায় প্রবীণরা অনেক কম জল বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করেন, যা অজান্তেই তাদের শরীরে মারাত্মক ডিহাইড্রেশন বা জলের ঘাটতি তৈরি করে। বার্ধক্যে শরীরে জলের পরিমাণ এমনিতেই কমতে থাকে, তার ওপর পর্যাপ্ত তরল না খেলে কিডনির সমস্যা, মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং রক্তচাপ হ্রাসের মতো নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। তাই প্রবীণদের সুস্থ ও সচল রাখতে তাদের পানীয় গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
অনেক সময় বয়স্ক ব্যক্তিরা ঘন ঘন শৌচাগারে যাওয়ার ঝমেলা এড়াতে বা অসচেতনতাবশত জল খাওয়া কমিয়ে দেন, যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিলে মাথা ঘোরানো, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি এবং ত্বকের শুষ্কতা ছাড়াও রক্ত ঘন হয়ে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই পরিবারের সদস্যদের উচিত প্রবীণদের দৈনন্দিন রুটিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং স্বাস্থ্যকর তরল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা। চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাগত কোনো নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ না থাকলে বয়স্কদের নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল গ্রহণ করা আবশ্যক।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রবীণদের দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল বা তরল পান করা উচিত যাতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো সচলভাবে কাজ করতে পারে।
- কাছের টেবিলে সবসময় জলের বোতল বা ভরা গ্লাস রাখা যাতে তৃষ্ণা পেলে সহজেই তারা তা পান করতে পারেন।
- সাধারণ জলের পাশাপাশি ডাবের জল, ফলের তাজা রস, বাছুরের স্যুপ বা লেবুর জল খাদ্যতালিকায় রাখা।
- অতিরিক্ত চা বা কফি পanasর অভ্যাস কমানো, কারণ ক্যাফেইন শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বের করে দেয়।
- জল খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য অ্যালার্ম সেট করা বা পরিবারের সদস্যদের তদারকি করা।
- তরমুজ, শসা বা কমলালেবুর মতো জলীয় অংশ বেশি রয়েছে এমন ফল নিয়মিত খেতে দেওয়া।
পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যান্য সতর্কতা
যদি প্রবীণ ব্যক্তির কিডনি বা হৃদরোগজনিত কোনো জটিলতা থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দৈনিক জলের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। সব ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান পরিমাণ জল প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
পরিশেষে, সামান্য সচেতনতাই প্রবীণদের বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। পর্যাপ্ত জল পানের অভ্যাস তাদের প্রাণবন্ত ও সুস্থ রাখতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী মাধ্যম।