বয়স্কদের একা বাইরে পাঠানোর আগে পরিবারের যে নিরাপত্তা বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার

বয়স্কদের একা বাইরে পাঠানোর আগে পরিবারের যে নিরাপত্তা বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা দরকার

প্রবীণদের একা বাইরে পাঠানোর সময় যে নিরাপত্তা সতর্কতাগুলো মেনে চলা আবশ্যক

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া, হাঁটার গতি ধীর হয়ে যাওয়া এবং মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে অনেক সময় তাদের জরুরি প্রয়োজনে বা কোনো ব্যক্তিগত কাজে একা বাইরে যেতে হয়। কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ত ও যানজটপূর্ণ রাস্তায় বয়স্কদের একা চলাচল করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই পরিবারের কোনো বয়স্ক সদস্যকে একা বাইরে পাঠানোর আগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সামান্য সচেতনতাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা পথ হারানোর মতো পরিস্থিতি এড়াতে সাহায্য করতে পারে।

বাইরে যাওয়ার আগে প্রবীণ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা কেমন আছে তা যাচাই করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। হঠাৎ মাথা ঘোরানো বা অতিরিক্ত দুর্বলতা থাকলে তাদের একা না পাঠানোই শ্রেয়। এছাড়া রাস্তা পারাপার, গণপরিবহনে ওঠা বা ভিড়ভাট্টা সামলানোর মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে কি না তা পরিবারের সদস্যদের বিবেচনা করতে হবে। তাদের ব্যাগে জরুরি যোগাযোগের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখা আছে কি না, তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: প্রবীণদের একা বাইরে পাঠানোর সময় তাদের পকেটে বা ব্যাগে পরিবারের সদস্যের ফোন নম্বরসহ সম্পূর্ণ পরিচয়ের একটি পরিচয়পত্র বা নোট অবশই গুঁজে দেওয়া উচিত।

  • প্রবীণ ব্যক্তির জামাকাপড়ের পকেটে বা গলায় ঝোলানোর কার্ডে নাম, বাড়ির ঠিকানা ও জরুরি যোগাযোগের ফোন নম্বর স্পষ্টভাবে লিখে রাখা।
  • তাদের কাছে একটি সচল মোবাইল ফোন রাখা এবং সেটি ব্যবহার করা বা রিসিভ করার বিষয়টি শিখিয়ে দেওয়া।
  • বাইরে যাওয়ার সময় আবহাওয়া অনুযায়ী উপযুক্ত পোশাক এবং আরামদায়ক নন-স্লিপ জুতো পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
  • কোথায় যাচ্ছেন এবং কখন ফিরবেন, সেই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য বা রুট সম্পর্কে আগে থেকেই অবহিত থাকা।
  • জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কিছু নগদ টাকা বা খুচরা অর্থ তাদের কাছে সবসময় রাখা।

প্রযুক্তির ব্যবহার ও অন্যান্য সুরক্ষা

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনে জিপিএস ট্র্যাকিং বা লোকেশন শেয়ারিং ফিচার ব্যবহার করে প্রবীণদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা সম্ভব। দীর্ঘ পথ একা যাতায়াত করতে হলে বিশ্বস্ত কোনো বাহন বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সবচেয়ে নিরাপদ।

পরিশেষে, প্রবীণদের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা রক্ষা করা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব। একটু সতর্কতা এবং সঠিক পরিকল্পনা বয়স্ক স্বজনদের একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে পারে।