প্রবীণদের মোবাইল ও অনলাইন প্রতারণা থেকে নিরাপদ রাখতে পরিবারের যে ভূমিকা পালন করা উচিত
প্রবীণ বয়সে মোবাইল ও অনলাইন প্রতারণার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন এবং অনলাইন লেনদেন আমাদের জীবনকে যতটা সহজ করে তুলেছে, অন্যদিকে প্রবীণদের জন্য তা আবার নতুন ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাইবার অপরাধীরা প্রায়শই সহজ-সরল ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে কম ধারণাসম্পন্ন প্রবীণদের টার্গেট করে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, লটারির লোভ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করে থাকে। এই ধরনের অনলাইন জালিয়াতির শিকার হয়ে বহু প্রবীণ তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে ফেলেন, যা তাদের মানসিক ও আর্থিক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে। তাই বয়স্ক বাবা-মা বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপদ রাখতে পরিবারের সদস্যদের অত্যন্ত সক্রিয় ও সতর্কতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রবীণরা সাধারণত অপরিচিত মানুষের কথায় সহজে ভরসা করেন এবং ওটিপি (OTP), পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকের গোপনীয় তথ্য শেয়ার করার বিপদ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকেন না। প্রতারকরা ফোন কল, এসএমএস বা ভুয়া লিংকের মাধ্যমে এই সমস্ত তথ্য হাতিয়ে নেয়। পরিবারের তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো প্রবীণদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম শিখিয়ে দেওয়া এবং তাদের অনলাইন কার্যকলাপে পরোক্ষভাবে নজর রাখা। একটু সচেতনতা এবং সঠিক ডিজিটাল শিক্ষার মাধ্যমেই এই ধরনের মারাত্মক জালিয়াতি থেকে প্রবীণদের সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের কোনো অবস্থাতেই ব্যাংকের পিন, ওটিপি বা ডেবিট কার্ডের তথ্য ফোনে কারো সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া উচিত।
- প্রবীণদের মোবাইল ফোনে কোনো সন্দেহজনক লিংক বা ম্যাসেজে ক্লিক না করার প্রাথমিক ধারণা দেওয়া।
- ব্যাংক বা সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ ফোন করে গোপনীয় তথ্য চাইলে তা না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের কাউকে জানানোর অভ্যাস করানো।
- মোবাইল ব্যাংকিং বা ইউপিআই (UPI) অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা বায়োমেট্রিক লক সেট করে দেওয়া।
- অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে লটারি জেতা বা পুরস্কার পাওয়ার ভুয়া কল এলে তা রিসিভ না করে কেটে দিতে শেখানো।
- ডিজিটাল লেনদেনের বিষয়ে সন্দেহ হলে নিজে চেষ্টা না করে সবসময় পরিবারের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া।
সাইবার সুরক্ষায় পরিবারের অন্যান্য করণীয়
প্রবীণদের স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত রাখতে হবে। এছাড়া তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোর প্রাইভেসি সেটিংস শক্তিশালী করে দেওয়া উচিত যাতে অপরিচিত কেউ তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের নাগাল না পায়।
পরিশেষে, প্রযুক্তির সুফল যেমন তরুণদের জন্য জরুরি, তেমনি এর অপব্যবহার থেকে প্রবীণদের রক্ষা করাও সমানভাবে দরকার। পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা ও নিয়মিত সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক আলোচনা বয়স্ক স্বজনদের একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ডিজিটাল জীবন উপহার দিতে পারে।