দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার সঠিক নিয়ম কী? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার সঠিক নিয়ম কী? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে সাহায্য করার সঠিক নিয়ম কী?

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত ও সঠিক উপায়ে সহায়তা করা বহু ক্ষেত্রে একটি জীবন বাঁচানোর মাধ্যম হতে পারে। দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর প্রথম ১ ঘণ্টার সময়কালকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'গোল্ডেন আওয়ার' (Golden Hour) বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা বা প্রাথমিক সাহায্য পেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। অথচ আইনি ঝামেলা বা পুলিশের ভয়ে অনেকেই আহত ব্যক্তিকে সাহায্য না করে কেবল দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেন, যা চরম অমানবিক ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।

দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে সাহায্য করার জন্য প্রথমে নিজের এবং ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যাতে পেছনের অন্য কোনো গাড়ি এসে আবারও ধাক্কা না দেয়। এরপর আহত ব্যক্তির জ্ঞান আছে কি না, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক চলছে কি না এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না তা দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে। আহত ব্যক্তির ঘাড় বা মেরুদণ্ডে আঘাত লেগে থাকতে পারে, তাই তাড়াহুড়ো করে তাকে ঝুলিয়ে বা অদক্ষভাবে টানাটানি করা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও আইন অনুযায়ী 'গুড সামারিটান ল' (Good Samaritan Law) বলবৎ রয়েছে, যার ফলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সহায়তাকারী ব্যক্তি সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষা পান এবং পুলিশ বা হাসপাতাল কোনো হয়রানি করতে পারে না।

  • রক্তপাত বন্ধ করার জন্য পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষতস্থান শক্ত করে চেপে ধরুন।
  • আহত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট হলে তার গলার টাই বা কলার লুজ করে দিন এবং স্বাভাবিক বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
  • জরুরি সেবার জন্য অবিলম্বে জাতীয় জরুরি নম্বর ১১২ (112) বা অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় কল করে বিস্তারিত তথ্য জানান।
  • রোগীর চেতনা না থাকলে তাকে জোর করে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না, এতে শ্বাসনালীতে পানি ঢুকে দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মানবিক দায়িত্ব ও জরুরি সতর্কতা

দুর্ঘটনাগ্রস্তদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ভয় বা জড়তা কাটিয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসুন।

সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়ান এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন। সচেতন নাগরিক হোন, জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।