বাস ও ট্রাকের পাশে বাইক চালানোর সময় কেন বাড়তি সতর্কতা জরুরি? জেনে নিন

বাস ও ট্রাকের পাশে বাইক চালানোর সময় কেন বাড়তি সতর্কতা জরুরি? জেনে নিন

বাস ও ট্রাকের পাশে বাইক চালানোর সময় কেন বাড়তি সতর্কতা জরুরি?

আমাদের ব্যস্ত রাস্তা এবং হাইওয়েগুলোতে বাস, ট্রাকের মতো ভারী বাণিজ্যিক যানবাহনের সঙ্গে প্রতিনিয়ত বাইক বা টু-হুইলার চালাতে হয়। কিন্তু মোটরসাইকেলের তুলনায় ভারী যানগুলোর আকৃতি বিশাল হওয়ায় এবং চালকের উচ্চতা বেশি থাকায় তাদের চারপাশে অনেকগুলো বিশাল 'ব্লাইন্ড স্পট' বা অন্ধ ক্ষেত্র তৈরি হয়। এই ব্লাইন্ড স্পটগুলোতে বাইক থাকলে বাস বা ট্রাকের চালক রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে বাইকটিকে দেখতে পান না, যা অত্যন্ত ভয়াবহ সংঘর্ষের প্রধান কারণ।

ভারী যানবাহনের পাশে বাইক চালানোর সময় শুধু ব্লাইন্ড স্পটের ঝুঁকিই নয়, বরং বাস বা ট্রাকের চাকা থেকে ছিটকে আসা পাথর, কাদা কিংবা সেগুলোর এয়ার ড্রাফট বা বাতাসের প্রচণ্ড টানের কারণে বাইকের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ভারী যানগুলো হঠাৎ লেন পরিবর্তন করলে বা মোড় নেওয়ার সময় পেছনের অংশ বাইরের দিকে বেশি সরে আসে (Rear Swing), যার ফলে অসতর্ক বাইক চালক বাসের নিচে চাপা পড়ার চরম বিপদের মুখোমুখি হন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: মোটরযান আইন ও ট্রাফিক গাইডলাইন অনুযায়ী কখনোও দুটি ভারী যানবাহনের মাঝের সরু জায়গা দিয়ে ওভারটেক করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

  • বাস বা ট্রাকের একদম কাছাকাছি বা পিছনের বাম্পারের সঙ্গে ঘেঁষে বাইক চালাবেন না, সর্বদা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
  • ভারী যানের ওভারটেক করার আগে হর্ন বাজিয়ে বা লাইট ফ্ল্যাশ করে চালককে নিজের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করুন।
  • বাস বা ট্রাকের ঠিক ডান বা বাঁ পাশে সমান্তরালে বেশক্ষণ একটানা ড্রাইভ করা থেকে বিরত থাকুন এবং দ্রুত ব্লাইন্ড স্পট পার হয়ে যান।
  • ভারী যানগুলো ডানে বা বাঁয়ে ইন্ডিকেটর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পেছনের কোণায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন এবং তাড়াহুড়ো করবেন না।

ভারী যানের পাশে রাইডিংয়ের অতিরিক্ত সতর্কতা

বড় যানবাহনের চালকরা অনেক সময় ক্লান্ত থাকেন এবং ছোট বাইক তাদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যেতে পারে। তাই সবসময় ডিফেন্সিভ ড্রাইভিং বা আত্মরক্ষামূলক রাইডিংয়ের মানসিকতা বজায় রাখুন।

সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলুন। সচেতন হোন, নিরাপদে বাইক চালান এবং নিজের জীবন সুরক্ষিত রাখুন।