চাকরিজীবী বা উচ্চশিক্ষিত স্ত্রী কি ডিভোর্সের পর খোরপোশ পাবেন? জানুন আদালতের নিয়ম
চাকরিজীবী বা উচ্চশিক্ষিত স্ত্রী কি খোরপোশ পাওয়ার অধিকারী?
বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় খোরপোশ বা অ্যালিমনি (Alimony) সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—স্ত্রী যদি নিজে চাকরিজীবী বা উচ্চশিক্ষিত হন, তবে কি তিনি ডিভোর্সের পর স্বামীর কাছ থেকে খোরপোশ দাবি করতে পারেন? বর্তমানে বহু নারী স্বাবলম্বী এবং উচ্চশিক্ষিত, ফলে আইনি ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে প্রায়শই জটিলতা তৈরি হয়।
ভারতীয় আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কেবল স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত বা চাকরিজীবী হলেই তার খোরপোশ পাওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায় না। তবে খোরপোশ মঞ্জুর হবে কি না এবং তার পরিমাণ কত হবে, তা নির্ধারণে আদালত বেশ কিছু বিশেষ দিক খতিয়ে দেখেন।
আইন ও সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
- উচ্চশিক্ষিত কিন্তু বেকার স্ত্রী: স্ত্রী উচ্চশিক্ষিত হলেও তিনি যদি বর্তমানে কোনো চাকরি না করেন বা তার নিজস্ব আয়ের কোনো উৎস না থাকে, তবে তিনি খোরপোশ পাওয়ার পূর্ণ অধিকারী। আদালত কেবল ডিগ্রি থাকার কারণে কোনো নারীকে খোরপোশ থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না।
- আয়ের পর্যাপ্ততা: স্ত্রী যদি চাকরি করেন, কিন্তু তার আয় স্বামীর আয়ের তুলনায় অত্যন্ত কম হয় এবং তিনি বিয়ের সময় যে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন তা বজায় রাখতে অক্ষম হন, তবে আদালত আয়ের ব্যবধান পূরণের জন্য খোরপোশ মঞ্জুর করতে পারেন।
- সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী স্ত্রী: স্ত্রী যদি ভালো চাকরি করেন এবং তার আয় নিজের সম্মানজনক জীবনযাত্রার জন্য সম্পূর্ণ পর্যাপ্ত হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে আদালত স্বামীর ওপর থেকে খোরপোশের দায় বাদ দিতে পারেন বা সামান্য অন্তর্বর্তীকালীন খোরপোশ ধার্য করতে পারেন।
- ক্যারিয়ার ত্যাগ করার প্রেক্ষাপট: বিবাহের পর সংসারের দায়িত্ব পালন বা সন্তান লালন-পালনের জন্য স্ত্রী যদি তার ভালো চাকরি বা ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়ে থাকেন, আদালত এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন।
খোরপোশ নির্ধারণে আদালতের মূল বিচার্য বিষয়
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক 'রজনীশ বনাম নেহা' (Rajnesh v. Neha) মামলার নির্দেশিকা অনুযায়ী, খোরপোশ প্রদান কেবল কোনো পক্ষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, বরং দুর্বল পক্ষ যেন আর্থিক অনটনে না পড়েন তা নিশ্চিত করা। আদালত উভয় পক্ষের আয় ও সম্পত্তির হলফনামা (Affidavit of Assets and Liabilities) পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেন।
যদি দেখা যায় স্ত্রী ও স্বামী উভয়ের আয় প্রায় সমান এবং স্ত্রী নিজের আর্থিক চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি সক্ষম, তবে স্ত্রী খোরপোশ নাও পেতে পারেন। কিন্তু স্বামী ও স্ত্রীর জীবনযাত্রার মানে যদি বড় ধরণের ব্যবধান থাকে, তবে স্ত্রী চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও আদালত খোরপোশ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারেন। এছাড়া, সন্তান যদি স্ত্রীর জিম্মায় থাকে, তবে স্ত্রীর নিজস্ব আয় থাকা সত্ত্বেও সন্তানের সমস্ত প্রয়োজনীয় খরচ স্বামীকে বহন করতে হয়।