ডিভোর্সে ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড কী? আদালত কেন এই সময় দেয় এবং মওকুফের নিয়ম

ডিভোর্সে ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড কী? আদালত কেন এই সময় দেয় এবং মওকুফের নিয়ম

ডিভোর্সে ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড কী?

পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের (Mutual Consent Divorce) ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো ৬ মাসের 'কুলিং-অফ পিরিয়ড' (Cooling-off Period)। ভারতীয় হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955)-এর ১৩বি(২) ধারা অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে ডিভোর্সের প্রথম আবেদন (First Motion) জমা দেওয়ার পর আদালত উভয় পক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে ৬ মাসের সময় দেন। দ্বিতীয় আবেদন বা 'Second Motion' পেশ করার আগে এই সময়ের বিরতি দেওয়া হয়।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, উভয় পক্ষ বিচ্ছেদে সম্মত থাকা সত্ত্বেও আদালত কেন এই ৬ মাসের অপেক্ষার মেয়াদ নির্ধারণ করে দেন। মূলত বৈবাহিক সম্পর্ককে শেষ একটি সুযোগ দেওয়াই এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য।

আদালত কেন ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড দেয়?

  • পুনর্বিবেচনার সুযোগ: ক্ষোভ, আবেগ বা তাৎক্ষণিক আবেগের বশে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় ভুল হতে পারে। এই ৬ মাস সময় দম্পতিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেয়।
  • সংসার জোড়া লাগার সম্ভাবনা: এই বিরতির মধ্যে যদি স্বামী-স্ত্রীর ক্ষোভ কমে যায় এবং তারা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন, তবে মামলা প্রত্যাহার করে পুনরায় সংসার শুরু করা সম্ভব হয়।
  • সন্তান ও আর্থিক সমঝোতা স্থায়ীকরণ: খোরপোশ, সম্পত্তি ভাগাভাগি বা সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কিত শর্তাবলী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার এবং নিশ্চিত হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।
  • আইনের অভিভাবকত্ব: ভারতীয় পারিবারিক আইনে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই আইন চায় না কোনো সংসার হঠাৎ বা তাড়াহুড়ো করে ভেঙে যাক।

কুলিং-অফ পিরিয়ড কি মওকুফ (Waiver) করা সম্ভব?

অতীতে ৬ মাসের এই অপেক্ষার সময়সূচি কঠোরভাবে পালন করা হতো। তবে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্ট 'অমরদীপ সিং বনাম হরবীন কাউর' ঐতিহাসিক মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ৬ মাসের কুলিং-অফ পিরিয়ড নির্দেশমূলক (Directory), কোনো বাধ্যতামূলক (Mandatory) নিয়ম নয়।

যদি আদালত সন্তুষ্ট হন যে—স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘ দিন (যেমন ১ বছর বা তার বেশি) ধরে আলাদা থাকছেন, সমঝোতার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, এবং খোরপোশ বা সন্তানের হেফাজত সংক্রান্ত সমস্ত বিবাদ পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, তবে আদালত ধারা ১৩বি(২)-এর অধীনে এই ৬ মাসের অপেক্ষার সময়সীমা মওকুফ (Waive off) করতে পারেন। এর ফলে ৬ মাস অপেক্ষা না করেই খুব দ্রুত বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়।