ডিভোর্স মামলার খরচ ও সময়: বিবাহবিচ্ছেদ মামলা শেষ হতে কতদিন লাগে?
ডিভোর্স মামলা সম্পন্ন হতে কতদিন সময় লাগে?
দাম্পত্য জীবন বিচ্ছেদের মোড়ে এসে দাঁড়ালে যেকোনো মানুষের মনেই প্রথম দুটি প্রশ্ন জাগে—ডিভোর্স মামলা শেষ হতে কতদিন সময় লাগবে এবং এতে আনুমানিক কত খরচ হতে পারে? ভারতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলার সময়সীমা সম্পূর্ণ নির্ভর করে বিচ্ছেদের ধরণ এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর।
মূলত দুই পদ্ধতিতে ডিভোর্স মামলা পরিচালিত হয়—পারস্পরিক সম্মতিতে (Mutual Consent Divorce) এবং একতরফা বা বিতর্কিত (Contested Divorce)। উভয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে সময় ও খরচের হিসাব সম্পূর্ণ আলাদা।
ডিভোর্সের ধরণ অনুযায়ী আনুমানিক সময়সীমা:
- পারস্পরিক সম্মতিতে ডিভোর্স: উভয়ে রাজি থাকলে মামলা সবচেয়ে দ্রুত শেষ হয়। সাধারণত ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে চূড়ান্ত ডিগ্রি পাওয়া যায়। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত কুলিং-অফ পিরিয়ড (Cooling-off Period) মওকুফ করলে মাত্র ১ থেকে ৩ মাসের মধ্যেও প্রক্রিয়াটি শেষ হতে পারে।
- একতরফা বা একপক্ষীয় ডিভোর্স: সঙ্গী রাজি না থাকলে বা অভিযোগ প্রমাণের বিষয় থাকলে এই মামলা দীর্ঘায়িত হয়। নিম্ন আদালত বা পারিবারিক আদালতে (Family Court) এ ধরনের মামলা শেষ হতে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিল হলে সময় আরও বাড়তে পারে।
ডিভোর্স মামলার খরচ কেমন হতে পারে?
ডিভোর্স মামলার নির্দিষ্ট কোনো সরকারি দর নেই। মামলার আইনি খরচ নির্ভর করে মামলার জটিলতা, আইনজীবীর অভিজ্ঞতা এবং শুনানির সংখ্যার ওপর। আদালতের কোর্ট ফি অত্যন্ত সামান্য হলেও মূল খরচ হয় আইনি পরামর্শ ও আইনজীবী ফিতে।
পারস্পরিক সম্মতির ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক অনেক কম এবং নির্দিষ্ট থাকে, কারণ এতে শুনানির সংখ্যা কম হয়। অন্যদিকে, একতরফা ডিভোর্সে নিয়মিত সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ জমা এবং দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক শুনানির প্রয়োজন হয়, ফলে খরচের পরিমাণও সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে। এছাড়া খোরপোশ (Alimony), সন্তানের ভরণপোষণ এবং আইনজীবী ফি মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় বড় আর্থিক হিসাব জড়িয়ে থাকে। সংক্ষেপে, আইনি বিষয়গুলো পূর্বে সমঝোতা করে নিলে সময় ও অর্থ উভয়ই বহুলাংশে বাঁচানো সম্ভব।