মাছের ঝোল রেসিপি – রুই বা কাতলা মাছ দিয়ে আলু, পটল ও সরষে বাটা পাতলা ঝোল

মাছের ঝোল রেসিপি – রুই বা কাতলা মাছ দিয়ে আলু, পটল ও সরষে বাটা পাতলা ঝোল

মাছের ঝোল – রুই/কাতলা মাছ দিয়ে বাঙালির চিরচেনা পাতলা ঝোল

বাঙালির প্রাত্যহিক রান্নার তালিকায় অন্যতম প্রিয় একটি পদ হলো "মাছের ঝোল"। এই পাতলা ঝোলের মধ্যে থাকে সেদ্ধ আলু, নরম পটল, সরষে বাটা আর কাঁচা লঙ্কার ঝাঁজ – যা গরম ভাতের সাথে এক অপূর্ব মিল গড়ে তোলে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বা হালকা খাওয়ার ইচ্ছা হলে এই রেসিপি সেরা। আজ আমরা শিখে নেব কীভাবে রুই বা কাতলা মাছ দিয়ে বানানো যায় এই সহজ কিন্তু অতুলনীয় স্বাদের মাছের ঝোল।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

  • রুই বা কাতলা মাছ – ৪টি মাঝারি টুকরো
  • আলু – ২টি, লম্বা করে কাটা
  • পটল – ২–৩টি, অর্ধেক করে কাটা
  • সরষে বাটা – ২ টেবিল চামচ
  • টমেটো – ১টি, কুচোনো
  • কাঁচা লঙ্কা – ৪–৫টি
  • হলুদ গুঁড়ো – ১ চা চামচ
  • নুন – স্বাদ অনুযায়ী
  • সরষের তেল – প্রয়োজন মতো
  • কালোজিরে – ১/২ চা চামচ
  • জল – প্রয়োজন মতো (পাতলা ঝোলের জন্য)

রান্নার ধাপ ধাপে প্রণালী

১. মাছ ম্যারিনেট করা: মাছের টুকরোগুলো ধুয়ে হলুদ ও নুন মাখিয়ে ১৫–২০ মিনিট রেখে দিন। এতে কাঁচা গন্ধ চলে যাবে এবং মাছ ভাজলে ভেঙে যাবে না।

২. মাছ ভাজা: কড়াইয়ে সরষের তেল গরম করে মাছের টুকরোগুলো একে একে দিয়ে দুই পাশ ভালোভাবে ভেজে তুলে নিন। অতিরিক্ত ভাজবেন না, নরম মাছ ভেঙে যেতে পারে।

৩. আলু ও পটল ভাজা: মাছ ভাজার পর সেই তেলেই আলু ও পটল হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। এতে ঝোলে আলাদা ফ্লেভার আসে।

৪. ফোড়ন দেওয়া: এবার তেলে অল্প কালোজিরে ও কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। ফোড়নের গন্ধ বেরোলে তাতে কুচানো টমেটো দিন ও নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।

৫. মশলা কষানো: এবার হলুদ, নুন ও সরষে বাটা দিয়ে মাঝারি আঁচে ভালোভাবে কষান। মশলা থেকে তেল ছেড়ে দিলে বুঝবেন কষানো হয়ে গেছে।

৬. ঝোল তৈরি: এবার ভাজা আলু ও পটল দিন এবং সামান্য জল দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর পরিমাণ মতো জল দিন পাতলা ঝোলের জন্য। ঢাকা দিয়ে সবজি সেদ্ধ করুন।

৭. মাছ দেওয়া: সবজি সেদ্ধ হলে ভাজা মাছের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। আরও ৫ মিনিট ফুটিয়ে কাঁচা লঙ্কা ছড়িয়ে দিয়ে গ্যাস বন্ধ করুন।

৮. পরিবেশন: গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন এই সাদামাটা অথচ সুস্বাদু মাছের ঝোল। সঙ্গে একটু কাঁচা লঙ্কা বা পেঁয়াজ থাকলে জমে যায়।

রান্নার কিছু টিপস

✔ মাছ ভাজার সময় গরম তেলে দিলে তা ভাঙবে না।
✔ সরষে বাটায় একটু পোস্ত বাটাও মেশালে ঝোল আরও মোলায়েম হয়।
✔ কাঁচা লঙ্কা ঝোলের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দিলে শিশুরাও খেতে পারবে।
✔ সরষের তেল না থাকলে রান্নার স্বাদ কমে যেতে পারে, তাই অরিজিনাল ফ্লেভার পেতে সরষের তেলই ব্যবহার করুন।

শেষ কথা

মাছের পাতলা ঝোল – এটি শুধু খাবার নয়, বাঙালির শিকড়ের সাথে যুক্ত এক পরম্পরা। সরষে, আলু, পটল, কাঁচা লঙ্কা আর সরষের তেলে ভাজা মাছের এই মিলন শরীর ও মন দুটোই ঠান্ডা করে দেয়। যেদিন হালকা খেতে ইচ্ছে করে, কিংবা পরিবারের সাথে বসে শান্ত দুপুরের খাবার উপভোগ করতে চান – এই রেসিপিটি তখন আপনার সেরা সঙ্গী হতে পারে। একবার রান্না করে দেখুন, বাঙালিয়ানা আরও একটু গভীরে বুঝতে পারবেন।