প্রবীণদের ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মেনে চলা জরুরি
প্রবীণ বয়সে ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলি এড়িয়ে চলা আবশ্যক
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে নানা ধরনের জটিল রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে, যার ফলে প্রবীণদের প্রতিদিন নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু বার্ধক্যে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণে ওষুধ খাওয়ার সময় ভুল হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। ভুল সময়ে ভুল মাত্রার ওষুধ খাওয়া বা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ সেবন করা প্রবীণদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বয়স্ক বাবা-মা বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায়, প্রবীণ ব্যক্তিরা একটি ওষুধ দুবার খেয়ে ফেলেছেন কিংবা খাওয়ার নিয়ম মনে রাখতে না পেরে ডোজ মিস করে ফেলেছেন। এই ধরনের অনিয়ম তাদের রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগের চিকিৎসায় বড় ধরনের বিপত্তি ঘটাতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা একে অপরের সঙ্গে বিক্রিয়া (Drug Interaction) এড়াতেও চিকিৎসকের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের সামান্য দায়িত্বশীলতাই এই ধরনের মারাত্মক ভুলের হাত থেকে প্রবীণদের রক্ষা করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া প্রবীণদের কোনো নতুন ওষুধ বা ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ দেওয়া থেকে সবসময় বিরত থাকতে হবে।
- ওষুধ খাওয়ার সঠিক সময় ও মাত্রা মনে রাখার জন্য পিল অর্গানাইজার বা ওষুধের বক্স ব্যবহার করা।
- প্রতিটি ওষুধের গায়ে বড় অক্ষরে খাওয়ার নিয়ম লিখে রাখা যাতে কম দৃষ্টিশক্তিতেও পড়তে সমস্যা না হয়।
- ডাক্তার বদল হলে বা নতুন কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে আগের সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসকের সামনে উপস্থাপন করা।
- খালি পেটে খাওয়ার ওষুধ নাকি ভরা পেটে খাওয়ার ওষুধ, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করে নেওয়া।
- নিজে নিজে ওষুধের ডোজ কমানো বা বাড়িয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত প্রেসক্রিপশন আপডেট করা।
ওষুধ ব্যবস্থাপনায় পরিবারের করণীয়
প্রবীণদের ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি তাদের নিজের ওপর ছেড়ে না দিয়ে পরিবারের কাউকে না কাউকে এই দায়িত্বের তদারকি করতে হবে। নিয়মিত প্রেসক্রিপশন চেক করা এবং ওষুধের স্টক ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই তা সংগ্রহ করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিশেষে, সামান্য অসাবধানতা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একটু সচেতনতা এবং সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস প্রবীণদের একটি ঝুঁকিমুক্ত ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারে।