বয়স্কদের নিয়মিত হাঁটা কেন জরুরি? সুস্থ থাকতে জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বয়স্কদের নিয়মিত হাঁটা কেন জরুরি? সুস্থ থাকতে জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রবীণ বয়সে নিয়মিত হাঁটার গুরুত্ব ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের পেশি ও হাড়ের শক্তি কমতে শুরু করে এবং মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। এই সময়ে নিজেকে সক্রিয় রাখা এবং বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়লেও হালকা এক্সারসাইজ বা হাঁটার অভ্যাস বজায় রাখা প্রবীণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কোনো ভারী ব্যায়াম ছাড়াই কেবল প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটলে শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত রোগব্যাধি দূরে রাখা সম্ভব হয়।

নিয়মিত হাঁটা প্রবীণদের জয়েন্টের নমনীয়তা বজায় রাখতে এবং বাত বা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে দারুণভাবে সাহায্য করে। অনেক প্রবীণ মানুষ হাঁটু বা কোমরের ব্যথায় ভুগে থাকেন, যার ফলে তারা চলাফেরা কমিয়ে দেন। অথচ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক জুতো পরে ও নিরাপদ পরিবেশে হালকা পায়ে হাঁটলে এই ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসে। এছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হাঁটার জুড়ি মেলা ভার। এটি শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এবং হৃদপিণ্ডকে সচল রাখতে সরাসরি সাহায্য করে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট নিয়ম করে হালকা গতিতে হাঁটলে তাদের হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

  • শরীরের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং পেশির শক্তি বাড়াতে প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করা।
  • হাঁটার সময় আরামদায়ক ও গ্রিপযুক্ত জুতো ব্যবহার করা যাতে হঠাৎ পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
  • খুব বেশি রোদে বা প্রচণ্ড ঠান্ডায় না হেঁটে মনোরম আবহাওয়া বা ঘরের ভেতরে ট্রেডমিল বা বারান্দায় হাঁটা।
  • হাঁটার সময় শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী গতি বজায় রাখা এবং ক্লান্তিবোধ হলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া।
  • শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে হাঁটার আগে ও পরে পরিমিত পরিমাণে পানি পান করা।

মানসিক অবসাদ দূর করতে হাঁটার ভূমিকা

শারীরিক উপকারের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সমানভাবে কার্যকরী। সকালে খোলা বাতাসে হাঁটলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার হরমোন নিসৃত হয়, যা উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া সকালে বাইরে হাঁটলে অন্যান্য সমবয়সীদের সঙ্গে দেখা হয়, যা সামাজিক মেলামেশা বাড়াতে এবং একাকিত্ব কাটাতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, বার্ধক্যকে জয় করে একটি সচল ও আনন্দময় জীবন কাটাতে হাঁটার বিকল্প নেই। পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের নিয়মিত হাঁটতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে সময় দেওয়া প্রতিটি পরিবারের দায়িত্ব। একটু সচেতনতাই বয়স্ক বাবা-মা বা স্বজনদের একটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন উপহার দিতে পারে।