বয়স্কদের পড়ে গিয়ে চোট পাওয়া রুখতে বাড়িতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত
প্রবীণদের সুরক্ষায় ঘরের ভেতরে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, পেশির দুর্বলতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে প্রবীণদের ঘরের ভেতরে পড়ে গিয়ে গুরুতর চোট পাওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য পড়ে যাওয়ার ঘটনাও অনেক সময় হাড় ভেঙে যাওয়া বা বড় ধরনের শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাড়ির অন্দরমহল এবং দৈনন্দিন চলাচলের জায়গাগুলোতে বিশেষ কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। একটু সচেতনতা এবং ছোটোখাটো কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
বাড়ির মেঝে বা বাথরুমের মতো স্যাঁতসেঁতে জায়গাগুলো প্রবীণদের দুর্ঘটনার প্রধান কেন্দ্রস্থল। অনেক সময় ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা তার, কার্পেটের কোণ উঁচ হয়ে থাকা কিংবা পর্যাপ্ত আলোর অভাবের কারণেও তারা হোঁচট খেতে পারেন। তাই ঘরের পরিবেশকে প্রবীণদের চলাফেরার উপযোগী করে তুলতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব হলো ঘরের সম্ভাব্য বিপদজনক জায়গাগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংস্কার করা।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: বাথরুম এবং সিঁড়ির মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে হ্যান্ডেল বা গ্র্যাব বার ইনস্টল করা প্রবীণদের হঠাৎ পড়ে যাওয়া রোধ করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
- বাড়ির প্রতিটি ঘরে এবং বিশেষ করে করিডোর ও সিঁড়িতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা যাতে রাতের বেলা চলাচলে সমস্যা না হয়।
- বাথরুমের ফ্লোর সবসময় শুকনো রাখা এবং স্লিপ-প্র résistance ম্যাট বা গ্র্যাব বার বসানো।
- ঘরের মেঝেতে ফাইবার বা কার্পেট থাকলে তার কোণগুলো ডাবল সাইডেড টেপ দিয়ে ফ্লোরের সঙ্গে আটকে দেওয়া যাতে হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
- প্রবীণদের চলাচলের রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বা বৈদ্যুতিক তার ছড়িয়ে ছিটিয়ে না রাখা।
- প্রবীণদের সবসময় নন-স্লিপ বা ভালো গ্রিপযুক্ত জুতো বা স্লিপার পরার অভ্যাস করানো।
ঘরের বাইরেও অন্যান্য সতর্কতা
ঘরের ভেতরের পাশাপাশি ছাদ বা বারান্দার মতো উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও পর্যাপ্ত রেলিং বা নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকা দরকার। এছাড়া তাদের সহজে নাগালের মধ্যে লাঠি বা ওয়াকার রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন যাতে চলাফেরায় অতিরিক্ত সহায়তা পায়।
পরিশেষে, একটু পরিকল্পনা ও সতর্কতাই প্রবীণদের ঘরের ভেতরে নিরাপদ রাখতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সুস্থ ও সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করতে বাড়ির পরিবেশকে ঝুঁকিমুক্ত করা প্রতিটি সচেতন পরিবারের প্রাথমিক দায়িত্ব।