প্রবীণদের পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে পরিবারের যে বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া দরকার

প্রবীণদের পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে পরিবারের যে বিষয়গুলোতে নজর দেওয়া দরকার

প্রবীণ বয়সে গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরের জৈবিক ঘড়িতে পরিবর্তন আসে, যার ফলে অনেক প্রবীণ মানুষেরই রাতের ঘুম কমে যায় বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম কেবল শরীরকে চাঙ্গা রাখাই নয়, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী অনিদ্রা প্রবীণদের মধ্যে মানসিক অবসাদ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্মৃতিভ্রমের মতো জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বয়স্ক বাবা-মা বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের কিছু বিশেষ বিষয়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে।

অনেক সময় প্রবীণদের অনিদ্রার পেছনে শারীরিক অস্বস্তি, ভুল সময়ে চা-কফি খাওয়া কিংবা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস জড়িয়ে থাকে। ঘরের পরিবেশ যদি কোলাহলপূর্ণ বা খুব বেশি আলোযুক্ত হয়, তবে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই তাদের একটি শান্তিপূর্ণ ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া পরিবারের দায়িত্ব। সঠিক রুটিন মেনে চললে এবং ছোটোখাটো কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনলে প্রবীণরা রাতে অনেক গভীর ও শান্তির ঘুম পেতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের প্রতিদিন রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা মানের ঘুম প্রয়োজন, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করা।
  • বিছানায় যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের হালকা খাবার খাওয়ার নিয়ম করা।
  • বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পানের অভ্যাস সম্পূর্ণ পরিহার করা।
  • শোবার ঘরটি যেন শান্ত, অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং আরামদায়ক তাপমাত্রার হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
  • দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানোর বদলে হালকা হাঁটা বা বই পড়ে সময় কাটানোর উৎসাহ দেওয়া।

ঘুমের সমস্যার পেছনে অন্যান্য কারণ

যদি কোনো প্রবীণ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র অনিদ্রার সমস্যায় ভোগেন, তবে তা কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ না খাইয়ে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পরিশেষে, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবনের জন্য শান্তির ঘুম অপরিহার্য। একটু সচেতনতা এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতাই প্রবীণদের একটি গভীর ও আরামদায়ক ঘুম উপহার দিতে পারে।